Back to article
IT Bangla Media itbangla.media
Tech

ডার্ক ওয়েবে বাংলাদেশসংশ্লিষ্ট ১৮ লাখের বেশি রেকর্ড, সরকারি সেবা খাতের তথ্যই বেশি: সাইবারস্টেশন

সাইবারস্টেশনের ‘বাংলাদেশ ডার্ক ওয়েব এক্সপোজার রিপোর্ট ২০২৬’ অনুযায়ী, ১৫ খাতের ৭৬৭ ডোমেইন পর্যালোচনায় ডার্ক ওয়েবে ১৮ লাখের বেশি ব্যবহারকারীর রেকর্ড ও অন্তত ১৭ হাজার ৩৬২ সেট লগইন তথ্য পাওয়া গেছে।

ডার্ক ওয়েব এক্সপোজার প্রতিবেদন নিয়ে আইটিবাংলা গ্রাফিক্স, সঙ্গে ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর নির্বাহী পরিচালক এমজে ফেরদৌস
ছবি: আইটিবাংলা গ্রাফিক্স (মূল ছবি: ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর ফেসবুক পেজ)

আমাদের প্রতিবেদক

বাংলাদেশসংশ্লিষ্ট ১৮ লাখের বেশি ব্যবহারকারীর রেকর্ড এবং অন্তত ১৭ হাজার ৩৬২ সেট লগইন তথ্য ডার্ক ওয়েবে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ব্রেইন স্টেশন ২৩ পিএলসির সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ সাইবারস্টেশন। প্রতিষ্ঠানটির ‘বাংলাদেশ ডার্ক ওয়েব এক্সপোজার রিপোর্ট ২০২৬’-এ এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস উপলক্ষে গত ১৫ অক্টোবর রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সাইবার রেজিলিয়েন্স ব্রিফিং ২০২৬’-এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। আয়োজনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ৩১ অক্টোবর ব্রেইন স্টেশন ২৩ তাদের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ সাইবার রেজিলিয়েন্স ব্রিফিং ২০২৬ নিয়ে ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর ভিডিওর দৃশ্য
ছবি: ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর ফেসবুক পেজ

১৫ খাতের ৭৬৭ ডোমেইন পর্যালোচনা

সাইবারস্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, যাচাইকৃত উৎস এবং প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ডার্ক ওয়েব পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম ‘ডার্কওয়াচ’ ব্যবহার করে দেশের ১৫টি খাতের ৭৬৭টি ডোমেইন পর্যালোচনা করা হয়। এর প্রায় সব খাতেই ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত থাকার প্রমাণ মিলেছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্মুক্ত নাগরিক তথ্যের সবচেয়ে বড় অংশ সরকারি সেবা খাতের। অন্যদিকে তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার হার সবচেয়ে বেশি প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে। সাইবারস্টেশন এসব পরিসংখ্যানকে ‘সর্বনিম্ন হিসাব’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি।

তথ্য উন্মুক্ত হওয়া মানেই সিস্টেম হ্যাক নয়

প্রতিবেদনে তথ্য উন্মুক্ত হওয়া এবং নিশ্চিত সিস্টেম লঙ্ঘনের মধ্যে পার্থক্য টানা হয়েছে। সাইবারস্টেশনের ভাষ্য, অনলাইনে কোনো প্রতিষ্ঠানের লগইন তথ্য বা রেকর্ড পাওয়া গেলেই প্রমাণ হয় না যে সেই প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে অনুপ্রবেশ ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পর্যালোচিত তথ্যের বড় অংশ ম্যালওয়্যার আক্রান্ত ব্যক্তিগত ডিভাইস থেকে সংগ্রহ করে অনলাইনে কেনাবেচা হয়েছে। মূল্যায়নের সময় কোনো প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে প্রবেশ করা বা পাওয়া লগইন তথ্য পরীক্ষা করা হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সাইবারস্টেশনের সাইবার নিরাপত্তা সেবাবিষয়ক প্রধান মোহিব্বুল মোক্তাদীর বলেন, ‘যে ঝুঁকি আমরা দেখতে পাই না, তা আমরা সামলাতে পারি না। আমাদের লক্ষ্য, প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বুঝতে পারে কোন তথ্য উন্মুক্ত হয়েছে এবং অপরাধীরা অপব্যবহার করার আগেই ব্যবস্থা নিতে পারে।’

প্যানেল আলোচনা ও অংশগ্রহণ

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি, সরকারি ও শিক্ষা খাতের প্রায় ১৫০ জন প্রতিনিধি, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা এবং সাইবার নিরাপত্তা পেশাজীবীরা অংশ নেন। ডার্ক ওয়েবে তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার ঝুঁকি ও তা মোকাবিলার উপায় নিয়ে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পরামর্শক অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহরিয়ার রহমান, ঢাকা মহানগর পুলিশের স্পেশাল রেসপন্স ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম সচিব (আইসিটি) মো. ইমরান খান এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় তথ্যের অপব্যবহার প্রতিরোধ ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

৩১ অক্টোবরের ফেসবুক পোস্টে ব্রেইন স্টেশন ২৩ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক এমজে ফেরদৌস অনুষ্ঠানে বলেন, বিশেষ করে এআইয়ের প্রসারের সঙ্গে গ্রাহকদের মধ্যে শক্তিশালী নিরাপত্তার চাহিদা বাড়ায় আলাদা সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ হিসেবে সাইবারস্টেশন গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর বিদ্যমান গ্রাহক না হলেও যেকোনো প্রতিষ্ঠান এ সেবা নিতে পারবে।

ব্রেইন স্টেশন ২৩ বলছে, সাইবার সক্ষমতা গড়ে তুলতে সচেতনতা, আগাম নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন খাতের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র

Source: https://itbangla.media/en/tech/dq3ncotzvm/
© 2026 IT Bangla Media
Scan to verify and read the original