ছাদের সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে দিলে ইউনিটপ্রতি সাড়ে ১০ টাকা, নেট মিটারিংয়ে উৎসাহ দিচ্ছে ইডকল
২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বসালে উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই দর মিলবে।
আমাদের প্রতিবেদক
বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বসিয়ে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে গ্রাহকদের উৎসাহ দিচ্ছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)। প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টারে বলা হয়েছে, নিজের ব্যবহারের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হলে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরকারের কাছে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করা যাবে।
পোস্টারে তিনটি সুবিধার কথা তুলে ধরা হয়েছে: নিজের বিদ্যুৎ নিজে উৎপাদন করে মাসিক বিলের খরচ কমানো, নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ছাদের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা এবং উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে বাড়তি আয়। বিস্তারিত জানতে আগামী ৩ ও ৪ নভেম্বর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠেয় ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এ যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রদর্শনী চলবে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত, সবার জন্য উন্মুক্ত। বিদ্যুৎ বিভাগ ও ইডকল যৌথভাবে এক্সপোর আয়োজন করছে।

সাড়ে ১০ টাকার প্রণোদনা কাদের জন্য
উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুতের এই দাম এসেছে বিদ্যুৎ বিভাগের একটি প্রজ্ঞাপন থেকে, যা ১ সেপ্টেম্বর জারি হয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রজ্ঞাপনে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ৮ টাকা ধরা হয়েছে। এর সঙ্গে ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিটের দাম ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।
‘নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫’ অনুযায়ী, যাঁরা ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসাবেন এবং নিজের ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দেবেন, তাঁরা পরের তিন বছর, অর্থাৎ ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই দর পাবেন। ওই তারিখের পরে বসানো ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না।
কেউ নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে কম খরচে ব্যবস্থা বসাতে পারলে সাশ্রয়ের অর্থ তাঁর লাভ হিসেবে গণ্য হবে। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো গ্রাহকের তথ্য ও গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের হিসাব রাখবে। প্রণোদনার টাকা গ্রাহকের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে যাবে, নগদে দেওয়া হবে না।
সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার ও মিটারসহ সব যন্ত্রপাতিকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) কারিগরি মান মানতে হবে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে এক বছরের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে চার হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত সক্ষমতা যোগ করার লক্ষ্য রয়েছে।