আর্টিকেলে ফিরে যান
IT Bangla Media itbangla.media
সাক্ষাৎকার

‘দূরবীন’ শুধু অ্যাপ নয়, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জীবনসঙ্গী: সামিউল ইসলাম

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের চলাফেরা, পড়া ও দৈনন্দিন কাজ সহজ করতে এআই অ্যাপ ‘দূরবীন’ তৈরি করেছে জেটটেক। অ্যাপটির ভাবনা, ফিচার ও পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

‘দূরবীন’ শুধু অ্যাপ নয়, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জীবনসঙ্গী: সামিউল ইসলাম

টেলিকম ডিজিটাল ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৫-এ ২০টি প্রতিষ্ঠানের ৩২টি উদ্ভাবনের মধ্যে আলাদা করে নজর কেড়েছিল জেটটেকের ‘দূরবীন এআই’। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের চলাফেরা, পড়ালেখা ও দৈনন্দিন জীবন সহজ ও স্বাধীন করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। অ্যাপটির ভাবনা, কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন জেটটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম।

প্রশ্ন: ‘দূরবীন এআই’ কী, আর এর পেছনের ভাবনা কী ছিল?

সামিউল ইসলাম: দূরবীন একটি এআইভিত্তিক ছবি ও ভিডিও প্রক্রিয়াকরণ অ্যাপ, যা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও কম দৃষ্টিসম্পন্ন মানুষের জন্য তৈরি। আমাদের মূল ভাবনা ছিল, একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষ যেন অন্যের সাহায্য ছাড়াই চারপাশের পরিবেশ বুঝতে ও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারেন। প্রযুক্তিকে মানবিক সহায়তা হিসেবে ব্যবহার করাই আমাদের লক্ষ্য।

প্রশ্ন: অ্যাপটি কীভাবে কাজ করে?

সামিউল ইসলাম: স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়ে আশপাশের দৃশ্য ধারণ করে অ্যাপটি তা তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্লেষণ করে। কোন বস্তু কোথায় আছে, তা শনাক্ত করে ভয়েসের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়। সামনে চেয়ার, দেয়াল, গাছ বা চলন্ত গাড়ি থাকলে সেটাও বলে দেয়। বলা যায়, এটি দৃশ্য বিশ্লেষণ করে কণ্ঠে নির্দেশনা দেওয়া একটি এআই সহকারী।

প্রশ্ন: আর কী কী ফিচার আছে?

সামিউল ইসলাম: বস্তু ও প্রতিবন্ধকতা শনাক্তের পাশাপাশি বাংলাদেশি টাকা চিনে কণ্ঠে জানিয়ে দেওয়ার সুবিধা আছে। বই, ওষুধের মোড়ক, রেসিপি বা অফিসের নথি স্ক্যান করে পড়ে শোনাতে পারে। চলার পথে বাঁয়ে বা ডানে ঘোরার নির্দেশনা দেয়, সামনে বাধা থাকলে সতর্ক করে। ভবিষ্যতে আরও ফিচার যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রশ্ন: এটি কি শুধু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য?

সামিউল ইসলাম: শুরুতে তাঁদের জন্যই তৈরি, তবে প্রযুক্তিটির ব্যবহার আরও বিস্তৃত। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নম্বর প্লেট শনাক্ত ও দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ, সীমান্ত ও ইমিগ্রেশনে পরিচয় যাচাই, ব্যাংকিংয়ে কণ্ঠনির্দেশিত লেনদেন, কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা খাতেও এটি কাজে লাগানো যায়।

প্রশ্ন: এখন পর্যন্ত কতজন ব্যবহার করেছেন? এটি কি বিনা মূল্যে পাওয়া যাবে?

সামিউল ইসলাম: আমরা এখন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছি। প্রায় ২০০ জন ব্যবহারকারী অ্যাপটি ব্যবহার করছেন এবং সবার প্রতিক্রিয়াই ইতিবাচক। অ্যাপটি সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেওয়া হবে, যাতে আর্থিক সীমাবদ্ধতা কারও ডিজিটাল জীবনের পথে বাধা না হয়।

প্রশ্ন: কারা এটি তৈরি করেছেন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাই-বা কী?

সামিউল ইসলাম: আমাদের চারজন এআই বিশেষজ্ঞের ছোট একটি দল প্রকল্পটিতে কাজ করছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্রের (আরআইসি) তত্ত্বাবধানে, আইসিটি বিভাগের ইডিজিই ও আইডিয়া প্রকল্প এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সহযোগিতায় এটি বাস্তবায়িত হয়েছে। আমাদের স্বপ্ন দেশের প্রতিটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের কাছে দূরবীন পৌঁছে দেওয়া। সঠিক সহযোগিতা ও অর্থায়ন পেলে সারা দেশে এটি ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

সূত্র: https://itbangla.media/interviews/usu0i7vo5z/
© 2026 IT Bangla Media
যাচাই ও মূল লেখা পড়তে স্ক্যান করুন