প্রতিযোগিতাকে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখি: ক্যাননের তোশিয়ুকি ইশিই
বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম, মিররলেস ক্যামেরার জনপ্রিয়তা, গ্রে মার্কেট ও এআই নিয়ে ক্যাননের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ক্যানন সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট ও সিইও তোশিয়ুকি ইশিই।
ক্যামেরা, ইমেজিং ও প্রিন্টিং পণ্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত জাপানের ক্যানন। ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি এখন দুই শতাধিক দেশে ব্যবসা করছে। বাংলাদেশে তরুণদের কনটেন্ট তৈরি, ভ্লগিং ও পেশাদার ফটোগ্রাফির কারণে ক্যাননের মিররলেস ও ডিএসএলআর ক্যামেরার চাহিদা বাড়ছে; করপোরেট খাতে প্রিন্টার ও স্ক্যানারেও প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান শক্ত।
ক্যানন সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী এবং ক্যানন এশিয়ার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা তোশিয়ুকি ইশিই দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ২৩টি দেশ ও অঞ্চলের বিক্রয়, বিপণন ও সেবা কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করেন। বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি কথা বলেছেন ক্যাননের বাজার কৌশল ও পরিকল্পনা নিয়ে।
প্রশ্ন: দ্বিতীয়বার বাংলাদেশে এলেন। কী পরিবর্তন চোখে পড়ল?
তোশিয়ুকি ইশিই: বেশ কয়েকটি বড় পরিবর্তন দেখছি। এখানকার তরুণেরা খুবই সক্রিয় ও প্রযুক্তিবান্ধব। মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে; তাঁরা এখন শুধু প্রয়োজন নয়, শখের জিনিসেও বিনিয়োগ করছেন। অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থারও অগ্রগতি হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্যাননের নতুন প্রযুক্তি ও পণ্যের জন্য বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার।
প্রশ্ন: দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে আপনার কৌশল কী?
তোশিয়ুকি ইশিই: তিন দশকের বেশি সময় ক্যাননে কাজ করছি। এ অঞ্চলে আমি তিনটি কৌশল মেনে চলি। প্রথমত, ক্যাননকে নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরা। দ্বিতীয়ত, ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা জানা, যাতে পণ্যের মান উন্নত হয়। তৃতীয়ত, উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ, অর্থাৎ নতুন প্রযুক্তি, নতুন পণ্য ও নতুন বাজার খোঁজা।
প্রশ্ন: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে মিররলেস ক্যামেরা জনপ্রিয় হয়েছে। এ পরিবর্তনকে কীভাবে দেখছেন?
তোশিয়ুকি ইশিই: মিররলেস ক্যামেরা নিঃসন্দেহে জনপ্রিয়। তবে আমাদের মনোযোগ শুধু মিররলেসে নয়; লেন্স, সেন্সর, প্রসেসরসহ পুরো ইমেজিং সমাধানে আমরা সমান গুরুত্ব দিচ্ছি। মিররলেসে সনি এগিয়ে থাকলেও এসএলআর ও প্রিন্টিং প্রযুক্তিতে ক্যানন এখনো শীর্ষে। স্মার্টফোন, গাড়ি ও নিরাপত্তা ক্যামেরাতেও আমাদের উদ্যোগ আছে। প্রতিযোগিতাকে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখি।
প্রশ্ন: গ্রে মার্কেট বা অবৈধ পণ্য বাজারে কী প্রভাব ফেলছে?
তোশিয়ুকি ইশিই: এটি বড় চ্যালেঞ্জ। গ্রে মার্কেটে ক্রেতা ও ব্র্যান্ড দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা আসল পণ্যের ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবার সুবিধা তুলে ধরছি। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া সমস্যাটি পুরোপুরি দূর করা কঠিন, তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা সাপ্লাই চেইন নজরদারি করছি।
প্রশ্ন: এআইয়ের যুগে ক্যাননের পরিকল্পনা কী?
তোশিয়ুকি ইশিই: ইমেজ সেন্সর ও অপটিকসে ক্যাননের উদ্ভাবন ক্যামেরা প্রযুক্তির মানদণ্ড তৈরি করেছে। আমাদের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ এআই প্রযুক্তি যুক্ত করার কাজ করছে, এরই মধ্যে কয়েকটি এআইভিত্তিক ফিচারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ভবিষ্যতে এর আরও বিস্তৃত প্রয়োগ দেখা যাবে।
প্রশ্ন: এই সফরের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
তোশিয়ুকি ইশিই: দীর্ঘদিনের অংশীদার জে.এ.এন অ্যাসোসিয়েটসকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার বড় শোরুম, প্রযুক্তিপণ্যের বাজার ও ডিলারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছি। বাজার, অংশীদার ও ক্রেতাদের ভালোভাবে বুঝতে চেয়েছি। এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে ক্যাননের উপস্থিতি আরও দৃঢ় করার কৌশল ঠিক করতে কাজে লাগবে।