আর্টিকেলে ফিরে যান
IT Bangla Media itbangla.media
মতামত ও বিশ্লেষণ

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কতটা দায়ী?

স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দায়ী করার প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন মনোবিজ্ঞান গবেষক পিটার গ্রে। তাঁর মতে, বড় কারণ শিশুদের হারানো স্বাধীনতা ও পড়াশোনার চাপ।

আইটি বাংলা ডেস্ক আইটি বাংলা ডেস্কবিশ্লেষণ
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কতটা দায়ী?

কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বিষণ্নতা ও উদ্বেগ বাড়ার জন্য স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দায়ী করা এখন প্রায় সর্বজনীন ধারণা। সেই ধারণাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন মনোবিজ্ঞান গবেষক পিটার গ্রে। নতুন বই রেস্টোরিং চাইল্ডহুড-এ তাঁর দাবি, সমস্যার মূলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের স্বাধীনতা কমে যাওয়া এবং কঠোর শিক্ষাব্যবস্থা।

গবেষণা কী বলছে

গ্রে বলছেন, বিভিন্ন গবেষণা ও সমন্বিত বিশ্লেষণে স্মার্টফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটানো সময়ের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। বরং কিছু গবেষণা বলছে, বিষণ্নতা বা উদ্বেগে ভোগা কিশোরেরা এসব মাধ্যমকে মোকাবিলার উপায় হিসেবেও ব্যবহার করে।

ফ্লোরিডার একটি গবেষণার উদাহরণ দেন তিনি: ১১ থেকে ১৩ বছর বয়সী যেসব শিশুর স্মার্টফোন ছিল, বাস্তবে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর ক্ষেত্রে তারা এগিয়ে ছিল। গ্রের মতে, শিশুদের পুরোপুরি স্মার্টফোন থেকে দূরে রাখলে কখনো কখনো তাদের সামাজিক যোগাযোগ ও আনন্দ কমে যেতে পারে।

স্কুলের চাপ ও হারানো খেলার মাঠ

বিভিন্ন সময়ের জরিপে কিশোরেরা উদ্বেগ ও মানসিক চাপের প্রধান কারণ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চেয়ে স্কুলের চাপকেই বেশি উল্লেখ করেছে বলে জানান গ্রে। তাঁর মতে, ১৯৮০-এর দশক থেকে শিশুদের নিজেদের মতো ঘোরাফেরা ও অবাধে খেলার সুযোগ কমে যাওয়ায় তাদের মানসিক দৃঢ়তা দুর্বল হয়েছে।

বিপরীত মত

‘দ্য অ্যাংশাস জেনারেশন’ বইয়ের লেখক মনোবিজ্ঞানী জোনাথন হেইট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখেন। শিশুদের স্বাধীনতা কমার বিষয়ে দুজন একমত হলেও ইন্টারনেটের ভূমিকা নিয়ে তাঁদের মতভেদ স্পষ্ট। গ্রের মতে, ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে ঘরে ইন্টারনেট বরং শিশুদের হারানো স্বাধীনতা ও যোগাযোগের কিছু সুযোগ ফিরিয়ে দিয়েছিল। হেইট পাল্টা বলছেন, গ্রে সংখ্যালঘু একটি গবেষকগোষ্ঠীর মতের ওপর বেশি নির্ভর করছেন। যদিও হেইটের তত্ত্বও একাধিক গবেষকের সমালোচনার মুখে পড়েছে।

আমাদের বিশ্লেষণ

অস্ট্রেলিয়ার পর যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নেও কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ নিয়ে আলোচনা চলছে; যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কে কিছু সীমাবদ্ধতা কার্যকরও হয়েছে। বাংলাদেশেও অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়ছে। এই বিতর্ক মনে করিয়ে দেয়, শুধু ফোন কেড়ে নেওয়া সমাধান নয়। পড়াশোনার চাপ কমানো, খেলাধুলা ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ বাড়ানো এবং অনলাইনে নিরাপদ আচরণ শেখানো—সব মিলিয়েই শিশুদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে হবে। নীতিনির্ধারণে জনপ্রিয় ধারণার চেয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত, গ্রের এই আহ্বান তাই যৌক্তিক।

সূত্র: https://itbangla.media/opinion-analysis/qzahgvy8pl/
© 2026 IT Bangla Media
যাচাই ও মূল লেখা পড়তে স্ক্যান করুন