আইফোন ১৮ প্রো বনাম ১৭ প্রো: আপগ্রেড করা কি জরুরি?
নতুন চিপ, দ্রুত চার্জিং আর বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ পেলেও ক্যামেরায় পার্থক্য সামান্য। জিএসএমএরিনার পরীক্ষার ফল ধরে দুই মডেলের তুলনা।
আইফোন ১৮ প্রোতে আগের প্রজন্মের ১৭ প্রোর তুলনায় প্রসেসর, ব্যাটারি ও চার্জিংয়ে উন্নতি এনেছে অ্যাপল। কিন্তু ছবি ও ভিডিওর মানে পার্থক্য খুব বেশি নয়। প্রযুক্তি ওয়েবসাইট জিএসএমএরিনার তুলনামূলক পরীক্ষা বলছে, দৈনন্দিন ব্যবহারে নতুন মডেলের সব সুবিধা আলাদা করে চোখে নাও পড়তে পারে।
প্রসেসর ও স্টোরেজ
আইফোন ১৮ প্রো চলে ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির এ২০ প্রো চিপে; ১৭ প্রোতে ছিল ৩ ন্যানোমিটারের এ১৯ প্রো। বেঞ্চমার্কে নতুন চিপ সিপিইউনির্ভর কাজে প্রায় ২৭ শতাংশ এবং গ্রাফিকসে প্রায় ১৩ শতাংশ এগিয়ে।
দুই ফোনেরই শুরুর সংস্করণে ১২ জিবি র্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ। তবে ১৮ প্রোতে সর্বোচ্চ ২ টেরাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজ মেলে, ১৭ প্রোতে যা ছিল ১ টেরাবাইট। জিএসএমএরিনার সতর্কতা: ১৮ প্রোর ১ ও ২ টেরাবাইট সংস্করণে কিউএলসি স্টোরেজ ব্যবহৃত হওয়ায় ৬০ শতাংশের বেশি ভরে গেলে লেখার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
ব্যাটারি ও চার্জিং
- ব্যাটারি: ৪,০৫৬ এমএএইচ (১৮ প্রো, ফিজিক্যাল সিম সংস্করণ) বনাম ৩,৯৯৮ এমএএইচ (১৭ প্রো)
- অ্যাকটিভ ইউজ স্কোর: ১৬ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট বনাম ১৫ ঘণ্টা ২২ মিনিট
- চার্জিং: ৪৫ ওয়াট বনাম ৩৫ ওয়াট
- ১৫ মিনিটে চার্জ: ৪২% বনাম ৪০%; ৩০ মিনিটে: ৭৪% বনাম ৭০%
- পূর্ণ চার্জ: ৬২ মিনিট বনাম ৭৮ মিনিট
ক্যামেরা: বড় নতুনত্ব অ্যাপারচারে
১৮ প্রোর মূল ক্যামেরায় এসেছে পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার—এফ/১.৪৮ থেকে এফ/৪.০ পর্যন্ত, মাঝে এফ/১.৮ ও এফ/২.৮-এর মতো ধাপও আছে। ১৭ প্রোর অ্যাপারচার এফ/১.৭৮-এ স্থির। নতুন মডেলে শাটার স্পিড, হোয়াইট ব্যালান্স ও অ্যাপারচার আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, ভিডিওতেও; তবে আইএসও নিজে ঠিক করার সুযোগ নেই।
বাস্তব ছবিতে অবশ্য ব্যবধান কম। দিনের আলোয় ১৮ প্রোর রং কিছুটা উষ্ণ এবং কোথাও কোথাও সূক্ষ্ম বিবরণ ভালো, কিন্তু সামগ্রিক পার্থক্য সামান্য। কম আলোয় উন্নতি আরও সীমিত; দুই গুণ জুমে কিছু পরীক্ষায় বরং ১৭ প্রোর ছবি সামান্য বেশি স্পষ্ট ছিল। সেলফির মান প্রায় এক।
ভিডিওতে দুই ফোনই সব ক্যামেরায় ২৪, ৩০ ও ৬০ ফ্রেমে ৪কে এবং মূল ক্যামেরায় ১২০ ফ্রেমে ৪কে ধারণ করতে পারে। পার্থক্য সিনেমাটিক মোডে: ১৮ প্রোতে সর্বোচ্চ ৬০ ফ্রেম, ১৭ প্রোতে ৩০ ফ্রেম।
ডিজাইন ও ডিসপ্লে
দুটিতেই ৬.৩ ইঞ্চির ১২০ হার্টজ এলটিপিও ওএলইডি পর্দা, আকারও প্রায় এক। ১৮ প্রোর ওজন ২১১ গ্রাম, ১৭ প্রোর ২০৬ গ্রাম। নতুন মডেলে ডায়নামিক আইল্যান্ড ছোট হয়েছে এবং সেখানে একসঙ্গে তিনটি চলমান কাজ দেখা যায়। ১৮ প্রো পাওয়া যাচ্ছে কালো, সিলভার, গ্লেসিয়ার ও বারগান্ডি রঙে; ১৭ প্রো ছিল সিলভার, কসমিক অরেঞ্জ ও ডিপ ব্লুতে।
কিনবেন কোনটি
জিএসএমএরিনার হিসাবে, ইউরোপের কিছু বাজারে ১৮ প্রোর শুরুর দাম আগের মডেলের চেয়ে ১৫০ ইউরো বেশি, আর কোথাও দুই মডেলের দামের ব্যবধান প্রায় ৩০০ ইউরো। ভালো ব্যাটারি, দ্রুত চার্জিং, জোরালো স্পিকার ও শক্তিশালী প্রসেসর চাইলে নতুন মডেল যুক্তিসংগত। তবে ক্যামেরা ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় পার্থক্য সীমিত বলে কম দামে ১৭ প্রো পেলে সেটিও ভালো বিকল্প—যদিও অ্যাপল উৎপাদন বন্ধ করায় নতুন ১৭ প্রো খুঁজে পাওয়া কিছু বাজারে কঠিন হয়ে উঠছে।