ডিএনএস বদলালেন, সবার কাছে পৌঁছাল কি? টার্মিনালে বিশ্ব মানচিত্রে দেখাবে ওপেন সোর্স dnsglobe
বিশ্বের ৩৪টি পাবলিক ডিএনএস রিজলভারে একসঙ্গে কোয়েরি পাঠিয়ে ডিএনএস প্রোপাগেশন দেখায় রাস্টে লেখা ওপেন সোর্স টুল dnsglobe। আছে ৩০ সেকেন্ড পরপর হালনাগাদের ওয়াচ মোড।
আমাদের প্রতিবেদক
ডোমেইনের ডিএনএস বদলানোর পর অনেকেরই একই অভিজ্ঞতা হয়। নিজের কম্পিউটারে নতুন সাইট চলে আসে, অথচ ক্লায়েন্ট বলছেন তাঁর কাছে এখনো পুরোনোটাই দেখাচ্ছে। এর কারণ, দুনিয়ার সব ডিএনএস সার্ভার একসঙ্গে হালনাগাদ হয় না। এ পরিবর্তন কোথায় কতটা পৌঁছাল, তা দেখতে সাধারণত dnschecker.org-এর মতো ওয়েবসাইট ব্যবহার করা হয়। একই কাজ এখন টার্মিনাল থেকেই করা যাচ্ছে dnsglobe নামের একটি ওপেন সোর্স টুল দিয়ে।
টুলটির কথা আজ শুক্রবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তুলে ধরেছেন শামসুদ্দোহা মজুমদার।

কীভাবে কাজ করে
গিটহাবে টুলটির রিপোজিটরির তথ্য অনুযায়ী, কোনো ডোমেইন দিলে dnsglobe বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ৩৪টি পাবলিক ডিএনএস রিজলভারকে একসঙ্গে কোয়েরি পাঠায়। এর মধ্যে গুগল, ক্লাউডফ্লেয়ার ও কোয়াড৯-এর মতো বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক যেমন আছে, তেমনি উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ গোলার্ধের রিজলভারও আছে। প্রতিটি রিজলভার কী উত্তর দিচ্ছে, তা একটি টেবিলে দেখা যায়। সঙ্গে থাকে আইপি, পিং, টিটিএল ও মেয়াদ শেষ হওয়ার কাউন্টডাউন।
প্রতিটি সার্ভারকে আলাদাভাবে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হয়, তাই প্রতিটির নিজস্ব সর্বশেষ অবস্থা দেখা যায়। একই রেকর্ড দেওয়া উত্তরগুলো এক দলে রাখা হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠের সঙ্গে না মেলা সার্ভারগুলো আলাদা করে চিহ্নিত হয়।
টার্মিনাল যথেষ্ট চওড়া হলে টেবিলের পাশে একটি বিশ্ব মানচিত্র আসে। এতে প্রতিটি সার্ভার একটি রঙিন বিন্দু: সবুজ মানে মিলছে, ম্যাজেন্টা মানে ভিন্ন উত্তর, লাল মানে ত্রুটি, হলুদ মানে উত্তরের অপেক্ষা। একটু কম চওড়া টার্মিনালে মানচিত্রের বদলে ঘুরন্ত থ্রিডি গ্লোব দেখা যায়।
ওয়াচ মোড ও রেকর্ড টাইপ
শামসুদ্দোহা মজুমদার তাঁর পোস্টে লিখেছেন, তাঁর কাছে সবচেয়ে কাজের মনে হয়েছে ‘ওয়াচ মোড’। একবার যাচাই শুরু করলে টুলটি প্রতি ৩০ সেকেন্ড পরপর আবার কোয়েরি পাঠায়, যতক্ষণ না সব জায়গায় নতুন রেকর্ড পৌঁছায়। A, AAAA, CNAME, MX, NS, TXT ও SOA রেকর্ড দেখা যায়। স্ক্রিপ্টে ব্যবহারের জন্য টিইউআই (টেক্সটভিত্তিক ইন্টারফেস) ছাড়া একবার ফল দেখিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার অপশনও আছে। জিওডিএনএস যাচাইয়ের জন্য ইডিএনএস ক্লায়েন্ট সাবনেট সুবিধাও রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য একটি সীমাবদ্ধতা
তাঁর পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, টুলটির বিল্ট-ইন তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার কোনো রিজলভার নেই। তবে কনফিগ ফাইলে নিজের আইএসপির ডিএনএস সার্ভার যোগ করে নেওয়া যায়। রিপোজিটরির নির্দেশনা অনুযায়ী, ~/.config/dnsglobe/config.toml ফাইলে নতুন রিজলভার যোগ করা যায়, চাইলে পুরো তালিকাও বদলে ফেলা যায়।
ইনস্টল ও লাইসেন্স
টুলটি রাস্ট প্রোগ্রামিং ভাষায় লেখা এবং এমআইটি লাইসেন্সে উন্মুক্ত। হোমব্রু, কার্গো (crates.io), আর্চ লিনাক্সের এইউআর বা নিক্স দিয়ে এটি ইনস্টল করা যায়। গিটহাবের রিলিজ পাতা থেকে তৈরি করা বাইনারিও নামানো যায়। ৫১৪ ল্যাবস নামের অ্যাকাউন্টের অধীনে রিপোজিটরিটি চলতি বছরের জুলাইয়ে তৈরি হয়। এর সর্বশেষ সংস্করণ v0.5.0 প্রকাশিত হয় আগস্টে। আজ পর্যন্ত রিপোজিটরিটিতে ১ হাজার ৩০০-র বেশি স্টার পড়েছে।
তথ্যসূত্র
- শামসুদ্দোহা মজুমদার-এর ফেসবুক পোস্ট: facebook.com
- dnsglobe, গিটহাব রিপোজিটরি: github.com/514-labs/dnsglobe