এআই এজেন্ট কিনে দেবে পণ্য, মানুষ কি তা মেনে নেবে?
এআই দিয়ে স্বয়ংক্রিয় কেনাকাটার আলোচনা যত বাড়ছে, ততই প্রশ্ন উঠছে: দামি ও ব্যক্তিগত পণ্যের সিদ্ধান্ত কি মানুষ যন্ত্রের হাতে ছেড়ে দেবে? অ্যাপল স্টোরের রূপকার রন জনসনের উত্তর, না।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এজেন্ট আপনার হয়ে পণ্য খুঁজবে, দাম তুলনা করবে, এমনকি অর্ডারও দিয়ে দেবে—প্রযুক্তি খাতে এখন এমন কেনাকাটার কথা জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু অ্যাপলের খুচরা বিক্রয়ব্যবস্থা গড়ে তোলার অন্যতম কারিগর রন জনসন মনে করেন, মানুষ পুরোপুরি এআই এজেন্টের ওপর ভরসা করে কেনাকাটা করবে না। তাঁর মতে, এআই অনলাইন কেনাকাটার অভিজ্ঞতা ভালো করবে, কিন্তু মানুষ কীভাবে কেনে, সেই মৌলিক অভ্যাস বদলাবে না।
দোকান শুধু বিক্রির জায়গা নয়
২০০০ সালে অ্যাপলে যোগ দিয়ে অ্যাপল স্টোরের ধারণা দাঁড় করান জনসন। তাঁর যুক্তি, দোকান শুধু পণ্য বিক্রির জায়গা নয়; এখানে মানুষ পণ্য হাতে নিয়ে দেখে, ব্যবহার করে বোঝে, প্রয়োজনে সাহায্য নেয়। অ্যাপল স্টোরের কর্মীদের কমিশনভিত্তিক বেতন না দেওয়ার সিদ্ধান্তও এই ভাবনা থেকে, যাতে তাঁরা বিক্রির চাপ না দিয়ে গ্রাহকের প্রয়োজন বুঝতে পারেন।
দামি পণ্যে শেষ সিদ্ধান্ত মানুষেরই
এক বা দুই হাজার ডলারের একটি ল্যাপটপ কোনো দোকান বা ওয়েবসাইটে না গিয়ে শুধু এআই এজেন্টের মাধ্যমে কেনা—এ ধারণায় সায় নেই জনসনের। ল্যাপটপের মতো ব্যক্তিগত পণ্যের ওজন, পর্দা বা আকার মানুষ নিজে যাচাই করতে চায়। এআই তথ্য দিয়ে বাছাই সহজ করবে, কিন্তু শেষ সিদ্ধান্তের আগে নিজের চোখে দেখার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণই থাকবে।
আমাদের বিশ্লেষণ
জনসনের যুক্তি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও প্রাসঙ্গিক। এখানে অনলাইনে কেনাকাটা দ্রুত বাড়লেও স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা গৃহস্থালি ইলেকট্রনিকসের মতো দামি পণ্য কেনার আগে বেশির ভাগ মানুষ এখনো শোরুমে গিয়ে দেখে নিতে চান। ভুয়া পণ্য ও বিক্রয়োত্তর সেবা নিয়ে আস্থার ঘাটতি সেই প্রবণতাকে আরও জোরালো করে।
তাই এআই এজেন্টের সবচেয়ে বড় ভূমিকা সম্ভবত হবে গবেষণা সহকারীর—দাম তুলনা, রিভিউ সংক্ষেপ, বিকল্প খুঁজে দেওয়া। নিত্যপ্রয়োজনীয় ও বারবার কেনা পণ্যে স্বয়ংক্রিয় অর্ডার জনপ্রিয় হতে পারে, কিন্তু দামি ও ব্যক্তিগত পণ্যে সিদ্ধান্তের চাবি মানুষের হাতেই থাকবে। জনসনের ভাষায়, এআই মানুষের বিচারবুদ্ধির বিকল্প নয়, সহায়ক মাত্র।




মন্তব্য