বিদেশে উচ্চশিক্ষা: সনদ সত্যায়নে মন্ত্রণালয়ে দৌড়ঝাঁপ নয়, মাইগভে ঘরে বসেই অ্যাপোস্টিল
বিদেশগামী শিক্ষার্থীরা মাইগভ (mygov.bd) থেকে অনলাইনে অ্যাপোস্টিল পদ্ধতিতে সনদ সত্যায়নের আবেদন করতে পারছেন। ফি প্রতি পৃষ্ঠা ২০০ টাকা, যাচাই করা যাবে কিউআর কোডে।
আমাদের প্রতিবেদক
উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে চাইলে শিক্ষাগত সনদ সত্যায়নের জন্য এখন আর মন্ত্রণালয়ে ঘুরতে হবে না। সরকারের সেবা প্ল্যাটফর্ম মাইগভ (mygov.bd) থেকে ঘরে বসেই অনলাইনে অ্যাপোস্টিল সেবার আবেদন করা যাচ্ছে। সম্প্রতি এটুআই (a2i – Aspire to Innovate) তাদের ফেসবুক পেজে বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের এ সেবা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

অ্যাপোস্টিল কী
অ্যাপোস্টিল হলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একধরনের সত্যায়ন সনদ। ১৯৬১ সালের হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের আওতায় এক দেশের সরকারি নথি অন্য দেশে ব্যবহারের জন্য এ পদ্ধতি চালু আছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ই-অ্যাপোস্টিল ডিরেক্টরির তথ্যমতে, বাংলাদেশে এ সেবার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কনভেনশনভুক্ত ১১৪টি দেশে এ সনদ গ্রহণযোগ্য, ফলে আলাদা করে দূতাবাসে গিয়ে সত্যায়নের ঝামেলা কমে।
মাইগভের সেবা পাতায় বলা হয়েছে, অ্যাপোস্টিল পদ্ধতিতে সত্যায়িত সনদ পুনরায় সত্যায়ন বা নোটারি করার প্রয়োজন নেই। প্রতিটি ই-অ্যাপোস্টিল সনদে একটি কিউআর কোড বা যাচাই নম্বর থাকে। সেটি স্ক্যান করে যে কেউ যাচাই করতে পারেন, সনদটি সত্যিই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সত্যায়ন করেছে কি না।
কোন সনদের জন্য কোন আবেদন
মাইগভে সনদের ধরন অনুযায়ী আলাদা আলাদা আবেদনের ব্যবস্থা আছে। যেমন এসএসসি সার্টিফিকেট বা একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, এইচএসসি সার্টিফিকেট বা ট্রান্সক্রিপ্ট, এইচএসসি (ভোকেশনাল), পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভিশনাল সার্টিফিকেট এবং সিবিটিঅ্যান্ডএ সার্টিফিকেটের জন্য আলাদা সেবা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘চেইন অব লিগালাইজেশন’ তালিকা অনুযায়ী, এসএসসি ও এইচএসসি সনদ প্রথমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড এবং স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি সনদ প্রথমে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় যাচাই করে। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় হয়ে চূড়ান্ত সত্যায়ন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আবেদনের নিয়ম ও খরচ
- mygov.bd-তে নিবন্ধন বা লগইন করে সনদের ধরন অনুযায়ী সেবাটি বেছে নিতে হবে।
- সনদের কপি JPEG, JPG বা PNG ফরম্যাটে আপলোড করতে হবে। প্রতিটি ফাইল সর্বোচ্চ ১ মেগাবাইট হতে পারবে।
- ফি প্রতি পৃষ্ঠা ২০০ টাকা।
- পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের যেকোনো একটির নম্বর দিতে হবে। ভিন্ন ভিন্ন ডিগ্রির জন্য আলাদা আবেদন ও আলাদা পেমেন্ট করতে হবে।
- আবেদন শেষ না করে খসড়া হিসেবে সংরক্ষণ করে পরে আবার শুরু করা যায়।
- আবেদন জমা দিলে একটি ট্র্যাকিং নম্বর মিলবে। এ নম্বর দিয়ে আবেদনের অগ্রগতি দেখা যাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য মাইগভে আলাদা নির্দেশনা আছে। ২০১৭ সালের আগের শিক্ষার্থীদের ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং পরের শিক্ষার্থীদের ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ নির্বাচন করতে বলা হয়েছে। আইফোন বা ম্যাকবুকে সাফারি ব্রাউজারে ফাইল আপলোডে সমস্যা হলে ক্রোম, ফায়ারফক্স বা এজ ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
সনদ সত্যায়নের পুরোনো প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের একাধিক দপ্তরে সশরীরে যেতে হতো। অনলাইন অ্যাপোস্টিল চালু হওয়ায় সময় ও খরচ দুটোই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আবেদনের আগে গন্তব্য দেশটি অ্যাপোস্টিল কনভেনশনভুক্ত কি না, তা মাইগভের তালিকায় দেখে নেওয়া ভালো।
তথ্যসূত্র
- এটুআই (a2i – Aspire to Innovate)-এর ফেসবুক পোস্ট: facebook.com
- মাইগভ, এইচএসসি সনদ সত্যায়নের সেবা পাতা: mygov.bd
- মাইগভ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভিশনাল সার্টিফিকেট সত্যায়নের সেবা পাতা: mygov.bd
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ই-অ্যাপোস্টিল ডিরেক্টরি: apostille.mygov.bd
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, চেইন অব লিগালাইজেশন: apostille.mygov.bd











Comments