মূল বিষয়বস্তুতে যান
বিজ্ঞাপন

ই-ক্যাবে ভোটার মাত্র ১৭ শতাংশ সদস্য, কর রিটার্নের শর্তে ‘দ্বৈত নীতির’ অভিযোগ

৩ হাজারের বেশি সদস্যের মধ্যে আবেদন করেছিলেন ৭৭৭ জন, প্রাথমিক তালিকায় এসেছেন ৫২৩ জন। বাদ পড়াদের মধ্যে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরাও আছেন। আপিল ১ নভেম্বর পর্যন্ত।

ব্যালট বাক্স, বাতিল চিহ্নিত আবেদনপত্র ও ই-ক্যাবের লোগোসংবলিত গ্রাফিক
ছবি: ডিজিবাংলা / আইটিবাংলা গ্রাফিক্স

আমাদের প্রতিবেদক

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনের প্রাথমিক ভোটার তালিকায় জায়গা পেয়েছেন সংগঠনটির মোট সদস্যের মাত্র ১৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ভোটার হতে আবেদন করেছিলেন, এমন সদস্যদের প্রায় ৩৩ শতাংশের আবেদন নথিপত্রের ঘাটতির কারণে বাতিল হয়েছে। প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যম ডিজিবাংলার এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর নির্বাচন বোর্ডের প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ই-ক্যাবের সদস্য নম্বর ৩০০৮ পর্যন্ত বিস্তৃত। এর মধ্যে সদস্যপদ নবায়ন ও ভোটার হওয়ার আবেদন জমা পড়েছিল ৭৭৭টি। অর্থাৎ প্রায় ২ হাজার ২৩১ জন, বা ৭৪ শতাংশের বেশি সদস্য ভোটার হওয়ার আবেদনই করেননি। এর মধ্যে সংগঠনের সাবেক সভাপতি শমী কায়সারও রয়েছেন বলে ডিজিবাংলা জানিয়েছে। আবেদনকারী ৭৭৭ জনের মধ্যে প্রাথমিক তালিকায় এসেছেন ৫২৩ জন, বাতিল হয়েছে ২৫৪ জনের (৩২ দশমিক ৬৯ শতাংশ) আবেদন।

বিজ্ঞাপন
ই-ক্যাব নির্বাচনের গ্রাফিক
ফাইল ছবি: ডিজিবাংলা

বাদ পড়েছেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরাও

ডিজিবাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, বাতিলের তালিকায় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক নেতাদের নামও আছে। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমালের আবেদন বাদ পড়েছে ওয়েবসাইটের হোমপেজ বা ফেসবুক পেজের স্ক্রিনশট জমা না দেওয়ার কারণে। আরেক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল হক অনুর আবেদন বাতিল হয়েছে হালনাগাদ আয়কর সনদ না থাকায়।

সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন ও সাবেক সহসভাপতি সৈয়দা আম্বারীন রেজাসহ কয়েকজনের আবেদন বাতিল হয়েছে পরিচালনা পর্ষদের প্রতিনিধি মনোনয়নের রেজুলেশন না থাকায়। এ ছাড়া পাঠাও, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস, স্টার কম্পিউটার, বিডিজবসসহ বেশ কয়েকটি পরিচিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের আবেদনও বাতিলের তালিকায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কোন কারণে কতজন বাদ পড়েছেন, সে বিশ্লেষণ আইটিবাংলার আগের প্রতিবেদনে রয়েছে: ই-ক্যাব নির্বাচন: প্রাথমিক ভোটার তালিকায় ৫২৩ জন, বাতিল ২৫৪।

কর রিটার্ন নিয়ে ‘দ্বৈত নীতির’ অভিযোগ

ডিজিবাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাদ পড়া সদস্যদের সবচেয়ে বড় আপত্তি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির জন্য আরোপিত শর্ত নিয়ে। তাঁদের প্রশ্ন, একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মালিকের ব্যক্তিগত আয়কর রিটার্ন জমা দিলেই ভোটার হওয়া গেলে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির জন্য কেন আলাদা কোম্পানি রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হলো। মালিক বা পরিচালকের ব্যক্তিগত কর পরিশোধের সনদ থাকার পরও কোম্পানির রিটার্ন না থাকার কারণে ভোটাধিকার বাতিলকে তাঁরা ‘দ্বৈত নীতি’ বলছেন।

নাম প্রকাশ না করা এক সদস্য ডিজিবাংলাকে বলেন, ভোটের উৎসবের বদলে ভোটার বাদ দেওয়া নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে। এতে নির্বাচন কতটা অংশগ্রহণমূলক হবে, সে প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে তালিকায় জায়গা পাওয়া এক সদস্য সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা জানিয়েছেন।

আপিল ১ নভেম্বর পর্যন্ত

নির্বাচন বোর্ডের নোটিশের বরাত দিয়ে ডিজিবাংলা জানিয়েছে, বাদ পড়া সদস্যরা প্রয়োজনীয় প্রমাণ ও হালনাগাদ নথিসহ নির্বাচনী আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করতে পারবেন। ৩০ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত অফিস চলাকালে এ আবেদন জমা দেওয়া যাবে, শেষ দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত। শুনানি শেষে ৫ ও ৬ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

তফসিল অনুযায়ী, সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক ও পাঁচটি পরিচালক পদসহ মোট ১১টি পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা চলবে ৬ থেকে ১২ নভেম্বর। বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ হবে ২৫ নভেম্বর, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ২৮ নভেম্বর। ভোট হবে ১৯ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সেদিনই প্রাথমিক ফল এবং ২৩ ডিসেম্বর চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে।

দীর্ঘ অচলাবস্থার পর নির্বাচন

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ই-ক্যাবের কার্যনির্বাহী কমিটি পদত্যাগ করলে সংগঠনটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ডিজিবাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরে উচ্চ আদালতে রিট মামলা ও আইনি জটিলতায় প্রশাসকের মেয়াদ কয়েক দফা পেরিয়ে যায়। রিট নিষ্পত্তির পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয় নতুন নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ড পুনর্গঠন করে। দুটি বোর্ডই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত।

তথ্যসূত্র

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

আরও পড়ুন