এক আইডিতে নাগরিকের তথ্য, নিজস্ব বাংলা এআই মডেল তৈরির পরিকল্পনা আইসিটি বিভাগের
সিটিজের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আইসিটি সচিব জানান, নাগরিকের ডেটাবেজ সমন্বয়, নিজস্ব এআই মডেল, শেয়ারড জিপিইউ অবকাঠামো ও সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সিতে জনবল নিয়োগ নিয়ে কাজ চলছে।
নাগরিকের বিভিন্ন সরকারি ডেটাবেজ এক জায়গায় আনতে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ চালু, দেশের নিজস্ব বাংলা এআই মডেল তৈরি এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ। সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে প্রযুক্তি সাংবাদিকদের সংগঠন সেন্টার ফর টেকনোলজি জার্নালিজমের (সিটিজে) নির্বাহী কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আইসিটি সচিব ড. মো. মামুনুর রশিদ ভুঁঞা এসব তথ্য জানান বলে ৩ নভেম্বর রাতে যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এক আইডিতে নাগরিকের তথ্য
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সচিব জানান যে এনআইডি, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন ও কর ফাইলসহ নাগরিকদের আলাদা আলাদা ডেটাবেজ সমন্বিত করে এক জায়গায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, এতে তথ্যের অপব্যবহার ও জালিয়াতি ঠেকানো যাবে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় ও ডেটা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি বিশ্বস্ত ইন্টারঅপারেবিলিটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির কাজও চলছে বলে জানান তিনি।
নিজস্ব এআই মডেল ও শেয়ারড জিপিইউ
এআইয়ের যুগে দেশের ডেটা সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে নিজস্ব এআই মডেল এবং শেয়ারড জিপিইউ অবকাঠামো গড়ে তোলার কথাও সভায় তুলে ধরেন সচিব। তবে এই মডেল বা অবকাঠামোর সময়সীমা, ব্যয় কিংবা কারিগরি খুঁটিনাটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সাইবার নিরাপত্তা, স্টার্টআপ ও টোল
দেশের সাইবার জগৎ নিরাপদ রাখতে সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সিকে আরও কার্যকর করা হচ্ছে বলে জানান সচিব। তাঁর তথ্যমতে, সংস্থাটিতে ১২০ জন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে, যাঁদের বড় একটি অংশ কারিগরি বিশেষজ্ঞ।
এ ছাড়া ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ’ ও আইসিটি বিভাগের যৌথ পরিচালনায় উদ্যোক্তাদের তহবিল দেওয়ার কথা জানান তিনি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের সব সেতু ও টোল প্লাজার জন্য একটি ‘ইউনিফাইড ডিজিটাল টোল সিস্টেম’ চালু হবে বলেও জানান সচিব।
সিটিজের দাবি ও সচিবের আশ্বাস
সভায় সিটিজের সভাপতি হাসান জাকির আইসিটি বিভাগের কার্যক্রম স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার আহ্বান জানান। দক্ষ জনবল তৈরির নামে দায়সারা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কোনো গোষ্ঠী যেন অর্থ আত্মসাতের সুযোগ না পায় এবং অর্থের অপচয় হয় এমন প্রকল্প যেন নেওয়া না হয়, সে দাবি জানান তিনি। সংগঠনটির মহাসচিব সাইফ আহমাদ বলেন, প্রযুক্তি খাতের নীতি বাস্তবায়নে ডেটা প্রাইভেসি ও সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। উদ্ভাবনী প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা যেন প্রকৃত উদ্যোক্তারা পান এবং এতে স্বজনপ্রীতি না হয়, তা নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।
সিটিজের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে আছে প্রতিবেদন তৈরিতে সাংবাদিকদের দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া, এআই ও সাইবার নিরাপত্তাসহ প্রযুক্তির নতুন খাত নিয়ে সাংবাদিকদের জন্য নিয়মিত কর্মশালা আয়োজন এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কমিটি ও সভায় সিটিজের প্রতিনিধি রাখা।
জবাবে আইসিটি সচিব সিটিজের পর্যবেক্ষণ ও দাবিগুলোকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বলেন, আইসিটি বিভাগ এখন থেকে আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন ছাড়া অন্য কোনো প্রশিক্ষণ দেবে না এবং স্টার্টআপসহ উদ্ভাবনী প্রকল্পের অর্থ ব্যয়েও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। সভায় আইসিটি বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মজিবর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের ডিজিটাল খাতের আরও পরিকল্পনা নিয়ে পড়ুন: পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য, টেককানেক্ট সম্মেলনে জানাল সরকার।
- যুগান্তর, ৩ নভেম্বর ২০২৬, রাত ১১টা ১৮ মিনিট: ডাটা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আসছে বাংলা এআই




মন্তব্য