১৬১৬ কোটির জাতীয় ডাটা সেন্টার, তবু সরকারি তথ্য বিদেশি ক্লাউডে
কালিয়াকৈরের জাতীয় ডাটা সেন্টারের একাংশ অচল হয়ে পড়ায় সরকারি তথ্য বিদেশি ক্লাউডে রাখতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সফটওয়্যার কেনাকাটা ও ক্লাউড চুক্তি নিয়েও অভিযোগ উঠেছে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ১ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা জাতীয় ডাটা সেন্টারের একাংশ অচল হয়ে পড়ায় সরকারি তথ্য ও সেবা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ক্লাউডে রাখতে হয়েছে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রকল্পটির সফটওয়্যার কেনাকাটা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্লাউড চুক্তি নিয়েও নানা অভিযোগ উঠেছে।

প্রকল্পের ব্যয় ও পরিকল্পনা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা এসেছে চীনা ঋণ থেকে, বাকি ৪১৬ কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। মূল বাস্তবায়নকাল ছিল ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৮ সালের ৩০ জুন, পরে মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়।
প্রকল্পের নকশায় ১৫২টি র্যাকে ৭৪৪টি ফিজিক্যাল সার্ভার বসিয়ে শুরুতে ২ পেটাবাইট স্টোরেজের ব্যবস্থা রাখার কথা ছিল, যা পরে ২০০ পেটাবাইট পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল।
যেসব অভিযোগ উঠেছে
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাইসেন্সকৃত ক্লাউড সফটওয়্যার কেনার জন্য ৫৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। নিয়ম অনুযায়ী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান জেডটিইর কাছ থেকে প্রাথমিক ও চূড়ান্ত অ্যাকসেপট্যান্স টেস্ট এবং সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়নি।
বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি ও প্রয়োজনীয় আপগ্রেডের অভাবে নির্ধারিত আয়ুষ্কালের আগেই সার্ভার, স্টোরেজ, রাউটার, সুইচ ও ফায়ারওয়ালের বড় একটি অংশ অচল হয়ে পড়ে বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিদেশি ক্লাউডে সরকারি তথ্য
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে দরপত্র ছাড়া সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ওরাকলের সঙ্গে তিন বছরের জন্য প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের চুক্তি করে বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড (বিডিসিসিএল)। চুক্তিতে ক্লাউড ব্যবহার হোক বা না হোক, নির্দিষ্ট ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের শর্ত ছিল। ২০২২ সালে জেডটিই ক্লাউডে থাকা প্রায় ৩৪ হাজার সরকারি দপ্তরের তথ্য ও সেবা সিঙ্গাপুরভিত্তিক ওরাকল ক্লাউডে স্থানান্তরের বিষয়টি সামনে আসে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
- কালবেলা-র প্রতিবেদন (সায়েন্স বি-র উল্লেখ অনুযায়ী)
- বিডি টুডে: “অসম চুক্তি ও অনিয়মে ধুঁকছে ১৬১৬ কোটির ডাটা সেন্টার”, ১ নভেম্বর ২০২৬
- সায়েন্স বি-র ফেসবুক পোস্ট, ৩ নভেম্বর ২০২৬








মন্তব্য