এআইয়ে চাকরি কমলে ভোক্তাও কমবে? সপ্তাহে তিন দিন অফিসের প্রস্তাব নিয়ে ফেসবুকে আলোচনা
এআইয়ের কারণে চাকরি হারালে কেনার ক্ষমতা কমবে, তাই কর্মঘণ্টা অর্ধেক করে পালাক্রমে সপ্তাহে তিন দিন অফিসের ধারণা দিয়েছেন শুভ আল-ফারুক।
আমাদের প্রতিবেদক
এআইয়ের কারণে চাকরি কমলে মানুষের কেনার ক্ষমতা কমবে, তাতে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শেষ পর্যন্ত এআই কোম্পানিগুলোর আয়ও কমবে। এই চক্র ঠেকাতে কর্মঘণ্টা অর্ধেক করে পালাক্রমে সপ্তাহে তিন দিন অফিসের একটি ধারণা নিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন শুভ আল-ফারুক। পোস্টটি নিয়ে মন্তব্যে চলছে আলোচনা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তির আলোচনা থেকে ধারণাটি পেয়েছেন।
ধারণাটি কী
শুভ লিখেছেন, “এ আই এর কারণে তো জব কমে যাচ্ছে, সামনে আরো কমে যাবে। কিন্তু ব্যাপক সংখ্যক জব কমে যাওয়ার মানে হচ্ছে ব্যাপকভাবে মানুষের পারচেজ পাওয়ার কমে যাবে। মানে, কনজিউমার কমে যাবে।” তাঁর যুক্তি, বিজনেসগুলোই মূলত এআই ব্যবহার করবে; ব্যবসা না চললে এআই কোম্পানিগুলোও আয় হারাবে। তাই ভোক্তা ধরে রাখতেই হবে।
সমাধান হিসেবে প্রস্তাব: সপ্তাহে পাঁচ-ছয় দিনের বদলে তিন দিন অফিস। এআই থাকায় তিন দিনই যথেষ্ট হবে। ব্যবসা যেন সপ্তাহজুড়ে চলে, সে জন্য শিফট: অর্ধেক কর্মী তিন দিন, বাকি অর্ধেক বাকি তিন দিন অফিস করবেন, আর এআই সব সময় তাঁদের সঙ্গে কাজ করবে।
তাঁর মতে, সর্বজনীন মৌলিক আয়ের (ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম) তুলনায় এটি বেশি বাস্তবসম্মত। এর ভালো প্রভাবও দেখছেন তিনি: শহরে স্থায়ীভাবে থাকার প্রবণতা কমবে, বিকেন্দ্রীকরণ হবে, চাকরির পাশাপাশি মানুষ নিজের ব্যবসা শুরু করতে পারবে, শহরে যাতায়াত ও যানজট কমবে।
চ্যালেঞ্জও আছে
শুভ নিজেই লিখেছেন, এটি বাস্তবায়নে নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত লাগবে; সরকারি-বেসরকারি সব অফিসের জন্য আইন করতে হবে। শুরুতে সব কোম্পানি এটা সামলাতে পারবে না। আর ব্যবসাগুলো এখন এআই গ্রহণের প্রাথমিক পর্যায়ে আছে; গ্রহণের হার ৮০ শতাংশ বা তার বেশি হলে একটা স্থিতিশীল অবস্থা আসতে পারে, তখন হয়তো এমন নীতি প্রয়োগ সম্ভব হবে। “তবে, তার আগ পর্যন্ত জব কমতেই থাকবে। মনে হয় তেমন কিছু করার নেই এখানে।”
মন্তব্যে যা বললেন অন্যরা
মন্তব্যে একজন ধারণাটিকে ‘অসাধারণ হাইপোথিসিস’ বলে এ নিয়ে পডকাস্ট করার পরামর্শ দেন। আরেকজন লেখেন, চাকরি কমলে ভোক্তা কমবে, এটাই সম্ভবত আসন্ন বাস্তবতা; তবু প্রতিদিন অনেকে চাকরি ছেড়ে ব্যবসার পেছনে ছুটছেন। ভিন্নমত দিয়ে আরেকজন মনে করেন, সমাজে ধনী আর গরিব, এই দুই স্তর তৈরি হবে, মাঝের স্তর অনেকটাই হারিয়ে যাবে; ফলে কেনার ক্ষমতা কমার প্রভাব ততটা পড়বে না।
সূত্র: শুভ আল-ফারুক-এর ফেসবুক পোস্ট — https://www.facebook.com/share/p/19K4GcKxdt/











Comments