মূল বিষয়বস্তুতে যান
বিজ্ঞাপন

বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যানে গ্রীষ্মে ২৫৯০ মেগাওয়াট চাহিদা কমতে পারে: আইইইএফএ

বাসাবাড়ির সাধারণ সিলিং ফ্যানের বদলে বিএলডিসি ফ্যান ব্যবহার করলে গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট কমতে পারে বলে আইইইএফএর নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে। বড় বাধা ফ্যানের বাড়তি দাম।

ঘুরন্ত সিলিং ফ্যানের ছবির পাশে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যানে চাহিদা কমার শিরোনাম
প্রতীকী ছবি: Veera.sj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0) / আইটিবাংলা গ্রাফিক্স

দেশের বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত সাধারণ সিলিং ফ্যানের বদলে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বিএলডিসি (ব্রাশলেস ডিরেক্ট কারেন্ট) ফ্যান ব্যবহার করলে গ্রীষ্মে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট পর্যন্ত কমতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) নতুন এক গবেষণায় এমন হিসাব দেওয়া হয়েছে। ২ নভেম্বর গবেষণাটি প্রকাশ করা হয়।

ঘরের ছাদে চলমান একটি সিলিং ফ্যান
প্রতীকী ছবি: Veera.sj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)

ফ্যানেই যাচ্ছে বড় অংশের বিদ্যুৎ

‘হাউসহোল্ড স্পেস কুলিং ইন বাংলাদেশ: রোল অব এনার্জি-এফিশিয়েন্ট ফ্যানস’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন আইইইএফএর বাংলাদেশবিষয়ক প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম। এর জন্য দেশের ২৬টি জেলার ৪৩৫টি পরিবারে জরিপ চালানো হয়। পরিবারগুলোকে মাসিক আয় অনুযায়ী ভাগ করা হয়েছিল।

গবেষণা অনুযায়ী, গ্রীষ্মে শুধু বাসাবাড়ির ফ্যান চালাতেই ৩ হাজার ৩৬২ থেকে ৫ হাজার ২১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লাগে। এই চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে রাত ৯টার দিকে। আইইইএফএ জানিয়েছে, চলতি বছরের ২৭ আগস্ট রাত ৯টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ১৯ হাজার ২৭ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল।

বিজ্ঞাপন

সাধারণ ফ্যান চলে ৭০ ওয়াট বা তার বেশি বিদ্যুতে, আর বিএলডিসি ফ্যানে লাগে ৩৫ ওয়াট। অথচ জরিপে ব্যবহৃত ফ্যানের মাত্র ১.৪ শতাংশ বিএলডিসি।

সাশ্রয় কতটা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সব পরিবার বিএলডিসি ফ্যানে গেলে গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা ১ হাজার ৬৭০ থেকে ২ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট পর্যন্ত কমতে পারে। তবে দেশজুড়ে পুরোপুরি এই পরিবর্তনে সময় লাগবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

সময়ভেদে ফ্যানের বিদ্যুৎ চাহিদা ও বিএলডিসি ফ্যানে সম্ভাব্য সাশ্রয়ের চার্ট
চার্ট: আইইইএফএ (সংগৃহীত)

হিসাব অনুযায়ী, এতে বছরে ৬ হাজার ৯১৩ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সাশ্রয় হতে পারে, যার মূল্য প্রায় ৮ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা। চাহিদা কমলে ভবিষ্যতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগও এড়ানো যেতে পারে। আইইইএফএর মতে, এই অর্থে দেশের সব অদক্ষ ফ্যান বদলে ফেলার খরচ মেটানো সম্ভব।

বাধা দাম

জরিপে অংশ নেওয়া ৯৬ শতাংশ পরিবার সাশ্রয়ের কথা জানার পর বিএলডিসি ফ্যানে যেতে আগ্রহ দেখিয়েছে। কিন্তু বড় বাধা দাম। একটি সাধারণ ফ্যানের দাম প্রায় ২ হাজার টাকা, যেখানে বিএলডিসি ফ্যানের দাম ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার ৩০০ টাকা।

গবেষণা অনুযায়ী, মাসে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বাড়তি এই খরচ উঠে আসতে ৭.৭ থেকে ৯.৬ বছর লাগতে পারে। একসঙ্গে বেশি পরিমাণে কেনা এবং কার্বন বাজার থেকে পাওয়া আয় কাজে লাগালে এই সময় ৪.৮ বছরে নামিয়ে আনা যেতে পারে।

যেসব সুপারিশ

  • বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যানের জন্য জাতীয় কর্মসূচি নেওয়া এবং তা বাস্তবায়নে একটি বড় জ্বালানি সেবা প্রতিষ্ঠান (সুপার ইএসসিও) গঠন
  • বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যান নিয়ে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো
  • টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) মাধ্যমে ফ্যানের মান ও লেবেলিং চূড়ান্ত করা
  • কম আয়ের পরিবারের জন্য দাম কমানোর কৌশল, যেমন একসঙ্গে কেনা ও কার্বন আয় ব্যবহার
  • বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে কিস্তিতে দাম পরিশোধের মতো অর্থায়নের ব্যবস্থা
তথ্যসূত্র

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

আরও পড়ুন