মূল বিষয়বস্তুতে যান
বিজ্ঞাপন

সাইবার হামলায় বন্ধ বেলজিয়ামের কর পোর্টাল, রিটার্ন জমার সময় বাড়ল ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত

সাইবার হামলার পর বেলজিয়ামের অর্থ বিভাগ কর পোর্টাল মাইমিনফিনসহ কয়েকটি সেবা বন্ধ রেখেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনো তথ্য ফাঁস হয়নি।

সাইবার হামলায় বেলজিয়ামের কর পোর্টাল বন্ধ
ছবি: সাইবারনিউজ / আইটিবাংলা গ্রাফিক্স

আমাদের প্রতিবেদক

সাইবার হামলার পর বেলজিয়ামের ফেডারেল অর্থ বিভাগ (এফওডি ফিন্যান্সিয়েন) তাদের প্রধান অনলাইন কর পোর্টাল মাইমিনফিনসহ (MyMinfin) কয়েকটি ডিজিটাল সেবা বন্ধ রেখেছে। ৩১ অক্টোবর কর রিটার্ন জমার শেষ সময়ের ঠিক আগে এ ঘটনা ঘটায় ওই সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা থাকা সব রিটার্নের সময়সীমা ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বেলজিয়াম সরকারের আনুষ্ঠানিক সংবাদ পোর্টালে প্রকাশিত হালনাগাদ বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে (২৭–২৮ অক্টোবর) হামলাকারীরা তাদের ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করে। নিরাপত্তা টুল ও মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা শনাক্ত করা হয়। সংক্রমিত হতে পারে এমন অংশগুলো বাকি ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। এ কারণে মাইমিনফিন অফলাইনে চলে গেলেও হ্যাকিং সফলভাবে থামানো গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বেলজিয়ামের কর সেবায় সাইবার হামলা নিয়ে সাইবারনিউজের গ্রাফিক
ছবি: সাইবারনিউজ

তথ্য ফাঁস হয়নি, দাবি কর্তৃপক্ষের

বিবৃতিতে বলা হয়, হামলাকারীরা ভেতরে এতটা বিস্তার ঘটাতে পারেনি যে কোনো অ্যাপ্লিকেশনের নিয়ন্ত্রণ নিতে বা ডেটায় প্রবেশ করতে পারে। কোনো তথ্য ফাঁস হয়নি বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। ঘটনাটিকে হ্যাকিং হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, হামলার পেছনের ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে ফেডারেল পুলিশ ও বেলজিয়ামের সেন্টার ফর সাইবার সিকিউরিটি তদন্তে যুক্ত হয়েছে।

সংস্থাটির মুখপাত্র ফ্রান্সিস অ্যাডিনস স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, হামলার কারণে মাইমিনফিন, ট্যাক্স-অন-ওয়েব ও বিজট্যাক্স অফলাইনে চলে যায়। সাইবারনিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাইমিনফিন হলো বেলজিয়ামে কর রিটার্ন ও আর্থিক নথি ব্যবস্থাপনার প্রধান অনলাইন প্ল্যাটফর্ম।

কবে চালু হবে, জানানো হয়নি

বন্ধ সেবাগুলো আবার কবে চালু হবে, সে বিষয়ে কোনো তারিখ জানানো হয়নি। কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন ঝুঁকি এড়াতে সেবাগুলো একটি বিচ্ছিন্ন পরিবেশে পুনরুদ্ধার করতে হবে, যা যথেষ্ট সময় ও সতর্কতার বিষয়। এর মধ্যে সংস্থাটির অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশনের বড় অংশ পুরোপুরি বা আংশিকভাবে চালু আছে বলে আগের বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল।

সাইবারনিউজ বলছে, সরকারি সংস্থার কাছে নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের সংবেদনশীল ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য থাকে বলে এসব প্রতিষ্ঠান সাইবার হামলাকারীদের লক্ষ্যে পরিণত হচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের শুরুতে ফ্রান্সের কর ব্যবস্থায় এক হামলায় সাড়ে ছয় লাখের বেশি করদাতার তথ্যে প্রবেশ করেছিল হামলাকারীরা। বেলজিয়ামের ঘটনায় তথ্য ফাঁস না হলেও এটি দেখিয়ে দিয়েছে, সীমিত পরিসরের হামলাও কীভাবে নাগরিকদের জরুরি সরকারি সেবা ব্যাহত করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

আরও পড়ুন