মূল বিষয়বস্তুতে যান
বিজ্ঞাপন

বাইন্যান্সে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো হ্যাক, ৬৩০ কোটি ডলারের সম্পদ আক্রান্ত, জব্দ প্রায় অর্ধেক

বাইন্যান্স জানিয়েছে, এক ডেভঅপস প্রকৌশলীর ল্যাপটপ আক্রান্ত হওয়ার সূত্র ধরে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রায় ৩০০ কোটি ডলার জব্দ হয়েছে। পুরো ক্ষতি পূরণের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ক্রিপ্টো ভল্ট থেকে অর্থ বেরিয়ে যাওয়া ও জব্দের প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

আমাদের প্রতিবেদক

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঘটনা ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এতে প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলারের (৬.৩ বিলিয়ন ডলার) সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ ব্লকচেইনেই জব্দ (ফ্রিজ) করা সম্ভব হয়েছে। এটিকে এখন পর্যন্ত ক্রিপ্টো খাতের সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা বলা হচ্ছে।

বাইন্যান্সের নিরাপত্তা ঘটনা নিয়ে দ্য হ্যাকার নিউজের ফেসবুক পোস্টের ছবি
ছবি: দ্য হ্যাকার নিউজ-এর ফেসবুক পোস্ট থেকে

বাইন্যান্সের প্রাথমিক তদন্ত বলছে, প্রতিষ্ঠানটির এক ডেভঅপস প্রকৌশলীর ল্যাপটপ আক্রান্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। সেখান থেকে হামলাকারী একটি সার্ভিস কনটেইনারে ঢুকে অননুমোদিত উইথড্র লেনদেন জমা দেয়। তবে কোনো ওয়ালেটের প্রাইভেট কি ফাঁস হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিজ্ঞাপন

বাইন্যান্সের কো-সিইও রিচার্ড টেং বলেছেন, হামলাকারী কেবল একজন প্রকৌশলীর অনুমতি ব্যবহার করেনি, আর এটি এক ক্লিকের কোনো কাজও ছিল না। এর পেছনে আরও জটিল আক্রমণ প্রক্রিয়া ছিল। তদন্তে এখনো কোনো ব্যক্তিকে দায়ী করা হয়নি বলেও জানান তিনি।

যেভাবে সরানো হয় অর্থ

ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবসের তথ্য অনুযায়ী, হামলার প্রস্তুতি চলছিল অন্তত ৩৬ ঘণ্টা আগে থেকে। বাংলাদেশ সময় ৩০ অক্টোবর রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে (২৯ অক্টোবর ২০:২০ ইউটিসি) হামলাকারী একটি লেনদেনে ৫০টি আগাম স্বাক্ষরিত অনুমোদন জমা দেয়। এর একটি কাজে লাগিয়ে বাইন্যান্সের একটি ‘হট ওয়ালেট’ নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা কনট্র্যাক্টের সঙ্গে যুক্ত করে ফেলে। এর কয়েক মিনিট পর এক লেনদেনেই ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৪ ইথার এবং ১৬১ কোটি ৫০ লাখ ইউএসডিটিসহ ৬৩টি টোকেন সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে আরও কয়েকটি ব্লকচেইনেও একই ধরনের লেনদেন ধরা পড়ে।

অঙ্ক নিয়ে কিছুটা ভিন্নতা আছে। টিআরএম ল্যাবসের হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ ৬৩৬ কোটি ডলার, আর চুরির সময়ের দাম ধরে চেইনালাইসিসের হিসাব প্রায় ৫৯১ কোটি ডলার। আগের রেকর্ড ছিল ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাইবিট এক্সচেঞ্জ থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার চুরির ঘটনা।

সন্দেহ উত্তর কোরিয়ার দিকে

টিআরএম ল্যাবস ও চেইনালাইসিস দুই প্রতিষ্ঠানই উচ্চ আস্থার সঙ্গে এ হামলার জন্য উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার দলকে দায়ী করেছে। টিআরএম ল্যাবসের মতে, এর পেছনে ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামের দলটি, যারা বাইবিট হ্যাকের সঙ্গেও জড়িত ছিল। বাইন্যান্স অবশ্য এখনো কাউকে দায়ী করেনি।

গ্রাহকদের জন্য কী বলছে বাইন্যান্স

বাইন্যান্স বলেছে, গ্রাহকের অর্থ নিরাপদ এবং পুরো ক্ষতি ‘সেফু’ (SAFU) তহবিল ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থ থেকে পূরণ করা হবে। সতর্কতা হিসেবে সাময়িকভাবে ডিপোজিট ও উইথড্র বন্ধ রাখা হয়েছে, আক্রান্ত ঠিকানার অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে এবং অর্থ উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ব্লকচেইন গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। উইথড্র সেবার নিরাপত্তা ঢেলে সাজানোর পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা আবার চালুর আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

জব্দ হওয়া অর্থের বড় অংশ স্টেবলকয়েন। টেথার ১৫৬ কোটি ৭০ লাখের বেশি ইউএসডিটি এবং সার্কেল ৮০ কোটি ইউএসডিসি জব্দ করেছে। তবে বিটকয়েন ও ইথার এভাবে জব্দ করা যায় না। দ্য হ্যাকার নিউজের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীর নিয়ন্ত্রণে এখনো প্রায় ২৪০ কোটি ডলারের ইথার ও বিটকয়েন রয়ে গেছে। ঘটনার প্রভাবে শুক্রবার বিটকয়েনের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে ৭৮ হাজার ডলারের নিচে নেমে যায় বলে জানিয়েছে সিএনবিসি।

বাইন্যান্স ব্যবহারকারীদের শুধু প্রতিষ্ঠানটির অফিশিয়াল চ্যানেল থেকে হালনাগাদ তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এমন সময়ে ‘ফান্ড ফেরত’ বা ‘অ্যাকাউন্ট যাচাই’-এর নামে প্রতারণামূলক বার্তা ও লিংক থেকেও সতর্ক থাকা জরুরি।

তথ্যসূত্র

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

আরও পড়ুন