মূল বিষয়বস্তুতে যান
বিজ্ঞাপন

মিয়ানমারের অনুরোধ প্রত্যাহার, স্পেনে প্রত্যর্পণ মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা

মিয়ানমার প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রত্যাহার করায় মিসফিট টেকনোলজিসের প্রধান নির্বাহী মুনিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রক্রিয়া বন্ধ করেছে স্পেনের আদালত। এপি ও এল পাইসের প্রতিবেদন অনুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মুনিমুল ইসলাম
মুনিমুল ইসলাম। ছবি: মিজিমা (ডেইলি ওয়াদার মাধ্যমে)

সংগৃহীত

বাংলাদেশি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মুনিমুল ইসলামকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রত্যাহার করেছে মিয়ানমার। এরপর স্পেনের আদালত তাঁর বিরুদ্ধে চলা প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি, স্পেনের দৈনিক এল পাইস এবং বাংলাদেশের অনলাইন সংবাদমাধ্যম ডেইলি ওয়াদার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

মুনিমুল ইসলাম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মিসফিট টেকনোলজিসের প্রধান নির্বাহী। ডেইলি ওয়াদা তাঁকে দেশের কৃষিপ্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম আইফার্মারের সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। এল পাইসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্যে থাকেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মুনিমুল ইসলাম
ছবি: মিজিমা (ডেইলি ওয়াদার মাধ্যমে)

যেভাবে আটক

এপি ও এল পাইসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর ছুটি কাটাতে লন্ডন থেকে বার্সেলোনার এল প্রাত বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে আটক করে স্পেনের পুলিশ। মিয়ানমারের অনুরোধে ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিশের ভিত্তিতে এ আটক হয়।

মামলাটির সূত্রপাত মিয়ানমারে মার্কিন বাণিজ্য সংগঠন আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচ্যাম মিয়ানমার) ঘিরে। মুনিমুল ইসলাম আগে সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন। এপি জানায়, সংগঠনটির অভিযোগের ভিত্তিতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ আনা হয় তাঁর পাশাপাশি সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও সাবেক নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধেও।

দুই পক্ষের বক্তব্য

এল পাইস যেসব নথি দেখেছে, সেগুলো অনুযায়ী মিয়ানমারের অভিযোগ ছিল, পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া চেম্বারের নাম ব্যবহার করে তিন থেকে পাঁচ লাখ ডলার তোলা হয়েছে। এ অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক লবিং প্রতিষ্ঠান মার্কারি পাবলিক অ্যাফেয়ার্সকে নিয়োগ করা হয়েছিল। ডেইলি ওয়াদা জানিয়েছে, অ্যামচ্যাম মিয়ানমারের পরবর্তী নেতৃত্বের দাবি, ওই চুক্তির যথাযথ অনুমোদন ছিল না।

অন্যদিকে মুনিমুল ইসলাম ও অভিযুক্ত অন্যরা অভিযোগগুলোকে বানোয়াট বলে দাবি করে আসছেন বলে এপি জানিয়েছে। এল পাইসের প্রতিবেদনে বলা হয়, চেম্বারের পর্ষদই মার্কারির সঙ্গে চুক্তি অনুমোদন করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল মিয়ানমারে ব্যবসা করা মার্কিন কোম্পানিগুলোর সুবিধা আদায়। এপির একটি অনুসন্ধানের বরাতে ডেইলি ওয়াদা জানায়, প্রায় তিন লাখ ডলার চেম্বারের হিসাব দিয়ে নয়, সরাসরি মিসফিট টেকনোলজিসের যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম থেকে মার্কারিকে দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন লবিং আইনের আওতায় সেই অর্থ প্রকাশও করা হয়েছিল।

আটক থেকে মামলার অবসান

এল পাইসের তথ্য অনুযায়ী, স্পেনের জাতীয় আদালত (আউদিয়েনসিয়া নাসিওনাল) প্রথমে তাঁকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন। প্রায় এক মাস পর অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান। তবে তাঁর পাসপোর্ট জমা রাখা হয় এবং দেশ ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

এল পাইসের বরাতে বার্সেলোনাভিত্তিক বার্না নিউজ জানায়, মিয়ানমার ১৮ অক্টোবর স্পেনের আদালতকে জানায় যে তারা আর প্রত্যর্পণ চাইবে না। মিয়ানমারের ভাষ্য ছিল, মুনিমুল ইসলাম শুধু বিদেশি কোম্পানির দেওয়া বিলিং নির্দেশনা অনুসরণ করেছিলেন। এপি জানায়, মিয়ানমার মামলাটি প্রত্যাহার করেছে এবং রেড নোটিশও বাতিল করেছে। তাদের তদন্তে প্রত্যর্পণের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ মেলেনি। স্পেনের বিচার বিভাগের ২৬ অক্টোবরের একটি নথিতে প্রক্রিয়াটি বন্ধের কথা বলা হয়েছে। এরপর পাসপোর্ট জমা রাখাসহ সব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়।

এল পাইসকে মুনিমুল ইসলাম বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কখনো ফৌজদারি মামলার ভিত্তি ছিল না। পুরো ঘটনাকে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন। এপির প্রশ্নের জবাবে ইন্টারপোল রেড নোটিশের বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত না করে বিষয়টি মিয়ানমারের কাছে পাঠিয়েছে বলে এপির বরাতে জানিয়েছে ইকোনোটাইমস।

মামলা প্রত্যাহারের পর অ্যামচ্যাম মিয়ানমারের কোনো প্রতিক্রিয়া বা আইফার্মারের আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি এসব প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

আরও পড়ুন