Skip to content
বিজ্ঞাপন

পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য, টেককানেক্ট সম্মেলনে জানাল সরকার

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও হুয়াওয়ের যৌথ আয়োজনে ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ সম্মেলনে ডিজিটাল কর্মসংস্থান, সংযোগ, কম দামি স্মার্টফোন ও এআই নীতি নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬ সম্মেলনের মঞ্চ
বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬ সম্মেলনের মঞ্চ। ছবি: ফেসবুক থেকে

সংগৃহীত

আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। ২৭ অক্টোবর ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ সম্মেলনে এ কথা জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ডেইলি সান ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে সম্মেলনের এসব তথ্য এসেছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং হুয়াওয়ে যৌথভাবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ প্রতিপাদ্যে সম্মেলনটির আয়োজন করে। সরকারি কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, শিল্পোদ্যোক্তা, প্রযুক্তিবিদ ও শিক্ষাবিদ মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক মানুষ এতে অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬ সম্মেলনের মঞ্চ
ছবি: ফেসবুক থেকে

মন্ত্রীর তিন অগ্রাধিকার

প্রতিবেদনগুলো অনুযায়ী, মন্ত্রী বলেন, এই লক্ষ্য পূরণে আধুনিক টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য উচ্চগতির সংযোগ, ডিজিটাল দক্ষতা, বিনিয়োগ এবং দেশীয় উদ্ভাবন দরকার হবে। তিনি তিনটি অগ্রাধিকারের কথা বলেন: ব্রডব্যান্ড ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো শক্তিশালী করা, সংযোগকে উৎপাদনশীলতায় রূপ দেওয়া এবং দায়িত্বশীলভাবে এআই ব্যবহার। সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার ওপরও জোর দেন তিনি।

সক্ষমতায় পিছিয়ে ১০ পয়েন্ট

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান বলেন, ডিজিটাল সক্ষমতায় বাংলাদেশ বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে প্রায় ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে। ইন্টারনেট সংযোগ থাকা আর তা কাজে লাগানোর মধ্যে ফারাক কমানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি।

সরকারের কর্মপরিকল্পনার চারটি নীতির কথাও তুলে ধরেন সচিব। এগুলো হলো বাংলা ভাষার সেবাসহ সাশ্রয়ী ডিভাইস ও ডেটা প্যাকেজ; ফাইবারে যুক্ত বেশি মোবাইল টাওয়ার ও দুর্যোগে টিকে থাকার মতো ব্যাকআপ; প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী স্ট্যান্ডঅ্যালোন ফাইভজি ও ভবিষ্যতের সিক্সজিতে বিনিয়োগ; এবং সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা ও জবাবদিহিমূলক এআই ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের আস্থা তৈরি।

দেশে কম দামি স্মার্টফোন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের বরাতে ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশিদ ভূঁইয়া জানিয়েছেন, দেশে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তাঁর হিসাবে, দেশে সবচেয়ে কম দামি ফিচার ফোনের দাম প্রায় ৯৯৯ টাকা, আর স্মার্টফোনের দাম শুরু হয় প্রায় ১০ হাজার টাকা থেকে।

ডিজিটাল রূপান্তরে সরকারের পাঁচটি অগ্রাধিকারের কথাও জানান তিনি: আইন ও নীতি সংস্কার, নির্ভরযোগ্য সংযোগ, ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো, এআই ও সাইবার নিরাপত্তা এবং দেশীয় উৎপাদন। জাতীয় এআই নীতির কাজ শুরু হয়েছে এবং কয়েক মাসের মধ্যে তা চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানান তিনি।

হুয়াওয়ের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট জেসন উ বলেন, দেশে ডিজিটাল অবকাঠামো গড়তে এবং সংযোগ, ক্লাউড ও এআইয়ের ব্যবহার বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটি সরকার ও শিল্প অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে।

সম্মেলনে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি ও সংযোগ, শিল্পে প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং এআইয়ের বৈশ্বিক প্রবণতা ও বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়ে তিনটি প্যানেল আলোচনা হয়। আলোচনায় ফাইভজি, ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাকসেস, ক্লাউড অবকাঠামো এবং পোশাক, বন্দর, কৃষি, স্বাস্থ্য, ব্যাংক ও লজিস্টিকস খাতে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে কথা হয়। পাশাপাশি ডিজিটাল সরকার, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, স্মার্টফোন ও এআই-সংক্রান্ত প্রযুক্তির প্রদর্শনী ছিল। অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের ফেসবুক পোস্ট অনুযায়ী, এটি আয়োজনটির টানা দ্বিতীয় আসর।

তথ্যসূত্র

বিজ্ঞাপন

Comments

Read also