মূল বিষয়বস্তুতে যান
বিজ্ঞাপন

গ্রাহকসেবায় এআই ভয়েসবটের পরীক্ষামূলক অনুমোদন পেল রবি, তথ্য সুরক্ষায় কড়া শর্ত

ছয় মাসের পরীক্ষামূলক অনুমোদন; বিদেশি ক্লাউডে পূর্ণাঙ্গ সিডিআর ও পরিচয় শনাক্তযোগ্য তথ্য পাঠানো নিষেধ, গ্রাহকের তথ্যে এআই মডেল প্রশিক্ষণও নিষিদ্ধ।

স্মার্টফোনে ভয়েস তরঙ্গ, হেডসেট ও তালার প্রতীকী গ্রাফিক, রবির এআই ভয়েসবট
প্রতীকী ছবি: আইটিবাংলা গ্রাফিক্স

সংগৃহীত

গ্রাহকসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ভয়েসবট ব্যবহারের জন্য মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটাকে ছয় মাসের পরীক্ষামূলক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। কমিশনের সাম্প্রতিক একটি সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষা নিয়ে অনুমোদনের সঙ্গে বেশ কিছু কড়া শর্ত জুড়ে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

কী কাজ করবে ভয়েসবট

অনুমোদন অনুযায়ী, সেবাটির নাম ‘রবি ভারবেক্স ভয়েসবট সলিউশন’। প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভারবেক্সের সঙ্গে ম্যানেজড সার্ভিস ব্যবস্থায় এটি চলবে। চার্জ-সংক্রান্ত তথ্য, বিলের বিবরণ, লোন ব্যবস্থাপনা, ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (ভ্যাস) এবং বিভিন্ন অফার কেনার মতো কাজে গ্রাহককে সহায়তা দেবে ভয়েসবটটি। প্রচলিত ফোন মেনুর মতো বোতাম চাপার বদলে গ্রাহক স্বাভাবিকভাবে কথা বলে প্রশ্ন করতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

কমপিউটার জগৎ-এর প্রতিবেদনে রবির প্রধান করপোরেট ও রেগুলেটরি কর্মকর্তা শাহেদ আলমের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সেবাটি এরই মধ্যে চালু হয়েছে এবং গ্রাহকেরা তা ব্যবহার করতে শুরু করেছেন।

বিদেশি ক্লাউডে প্রক্রিয়াকরণ, তাই শর্ত

সেবাটির প্রক্রিয়াকরণের একটি অংশ চলবে দেশের বাইরে থাকা গুগল ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের অবকাঠামোয়। এ কারণে বিটিআরসি কোন তথ্য বাইরে যেতে পারবে আর কোনটি পারবে না, তা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে:

  • গ্রাহকের মোবাইল নম্বর মূল রূপে বিদেশি ক্লাউডে পাঠানো যাবে না; ছদ্মনামকরণ (সিউডোনিমাইজেশন) ও এনক্রিপশন করে তবেই পাঠাতে হবে।
  • পূর্ণাঙ্গ কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) দেশের বাইরে পাঠানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ।
  • নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ঠিকানা ও বায়োমেট্রিকের মতো সরাসরি পরিচয় শনাক্তযোগ্য তথ্য বিদেশে পাঠানো বা সংরক্ষণ করা যাবে না।
  • কথোপকথনে ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই বা আদান-প্রদানের প্রয়োজন হলে কলটি সঙ্গে সঙ্গে মানব প্রতিনিধির কাছে স্থানান্তর করতে হবে।
  • এলএলএম (লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল) সেবাদাতা গ্রাহকের তথ্য সংরক্ষণ করতে পারবে না; শুধু চলমান সেশনে তথ্য প্রক্রিয়া করা যাবে। গ্রাহকের তথ্য দিয়ে মডেল প্রশিক্ষণ বা ফাইন-টিউনিংও নিষিদ্ধ।

গ্রাহকের সম্মতি ও নজরদারি

শর্ত অনুযায়ী, গ্রাহকের স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া সেবাটি চালু করা যাবে না এবং কথোপকথনের যেকোনো পর্যায়ে গ্রাহক চাইলে মানব প্রতিনিধির কাছে যেতে পারবেন। গ্রাহকের অ্যাকসেস ও সেশন লগ অন্তত দুই বছর সংরক্ষণ করতে হবে। বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিটিআরসি যেকোনো সময় ব্যবস্থাটি নিরীক্ষা করতে পারবে এবং আগাম নোটিশ ছাড়াই অনুমোদন স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষমতা কমিশনের হাতে থাকছে।

দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে গ্রাহকসেবায় এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটিকে একটি উল্লেখযোগ্য পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ছয় মাসের পরীক্ষামূলক সময়ে সেবার মান এবং তথ্য সুরক্ষার শর্ত কতটা মানা হয়, তার ওপরই এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

আরও পড়ুন