ডিআইএসে তথ্য না দেওয়ায় ১১৬ আইএসপিকে জরিমানা করল বিটিআরসি
নিবন্ধন, নোটিশের জবাব ও তথ্য জমার অবস্থা অনুযায়ী আড়াই হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা; অনিবন্ধিতদের ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধনের নির্দেশ।
সংগৃহীত
নিয়ন্ত্রক সংস্থার ডেটা ইনফরমেশন সিস্টেমে (ডিআইএস) নিয়মিত অপারেশনাল তথ্য জমা না দেওয়ায় ১১৬টি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে (আইএসপি) জরিমানা করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের দায়ে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যম ডিজিবাংলার ২৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর বিটিআরসির ৩১২তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। কমপিউটার জগৎ ১ নভেম্বর একই সিদ্ধান্তের খবর দিয়েছে।
জরিমানা যেভাবে ঠিক হয়েছে
প্রতিষ্ঠানটি ডিআইএসে নিবন্ধিত কি না, কমিশনের নোটিশের জবাব দিয়েছে কি না এবং তথ্য জমা দিয়েছে কি না, সেই ভিত্তিতে জরিমানার অঙ্ক আলাদা করা হয়েছে। লাইসেন্সের ধরন (বিভাগীয়, জেলা বা উপজেলা/থানা পর্যায়) অনুযায়ীও অঙ্ক ভিন্ন। ডিজিবাংলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হিসাব অনুযায়ী—
- জবাব ও তথ্য দুটোই দিয়েছে (২৮টি): বিভাগীয় পর্যায়ে ২০ হাজার, জেলা পর্যায়ে ১০ হাজার, উপজেলা/থানা পর্যায়ে আড়াই হাজার টাকা।
- জবাব দিলেও তথ্য দেয়নি (১৬টি): বিভাগীয় পর্যায়ে ৪০ হাজার, উপজেলা/থানা পর্যায়ে ৫ হাজার টাকা।
- জবাব দেয়নি, তবে তথ্য দিয়েছে (২টি): প্রতিটি ৩ হাজার ৭৫০ টাকা।
- জবাব ও তথ্য কোনোটিই দেয়নি (১৯টি): বিভাগীয় পর্যায়ে ৫০ হাজার, জেলা পর্যায়ে ২৫ হাজার, উপজেলা/থানা পর্যায়ে ৬ হাজার ২৫০ টাকা।
- ডিআইএসে অনিবন্ধিত ও জবাব দেয়নি (৩৭টি): বিভাগীয় পর্যায়ে ৭০ হাজার, জেলা পর্যায়ে ৩৫ হাজার, উপজেলা/থানা পর্যায়ে ৮ হাজার ৭৫০ টাকা।
- অনিবন্ধিত, তবে জবাব দিয়েছে (১৪টি): নেশনওয়াইড লাইসেন্সধারী একটি প্রতিষ্ঠানকে দেড় লাখ, জেলা পর্যায়ে ৩০ হাজার, উপজেলা/থানা পর্যায়ে ৭ হাজার ৫০০ টাকা।
ডিআইএসে অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধন ও তথ্য জমা না দিলে লাইসেন্স বাতিলের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সভায় একটি প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছায় লাইসেন্স সমর্পণ করায় সেটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।
ডিআইএস কেন গুরুত্বপূর্ণ
ডিআইএস হলো বিটিআরসির কেন্দ্রীয় তথ্যব্যবস্থা, যেখানে লাইসেন্সধারী আইএসপিদের গ্রাহকসংখ্যা, ব্যান্ডউইথ ব্যবহার ও নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর মতো অপারেশনাল তথ্য নিয়মিত জমা দিতে হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবার বিস্তার ও মান পর্যবেক্ষণ করে এবং লাইসেন্সবহির্ভূত কার্যক্রম শনাক্ত করে।
এর আগে বিটিআরসির ৩১০তম কমিশন সভার আলোচ্যসূচিতেও গত ছয় মাসে ডিআইএসে তথ্য না দেওয়া আইএসপিদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের মতো ব্যবস্থার বিষয়টি ছিল বলে ডিজিবাংলা জানিয়েছিল।
- কমপিউটার জগৎ (১ নভেম্বর ২০২৬): মূল প্রতিবেদনটি দেখুন
- ডিজিবাংলা (২৯ অক্টোবর ২০২৬): ৩১২তম কমিশন সভার সিদ্ধান্ত
- ডিজিবাংলা (২৩ আগস্ট ২০২৬): ৩১০তম কমিশন সভার আলোচ্যসূচি











মন্তব্য