মূল বিষয়বস্তুতে যান
বিজ্ঞাপন

তরঙ্গ নবায়নে ১৫ বছরের দামে ২০ বছরের লাইসেন্স চায় এমটব, বার্ষিক চার্জও তুলে দেওয়ার দাবি

১০ নভেম্বর গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের ৭৯.২ মেগাহার্টজ তরঙ্গের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর আগে ১৫ বছরের দামে ২০ বছরের লাইসেন্স, ২০ কিস্তি ও বার্ষিক চার্জ প্রত্যাহার চেয়ে বিটিআরসিকে চিঠি দিয়েছে এমটব।

শহরের ওপর মোবাইল টাওয়ার, সামনে টেবিলে টাকার বান্ডিল ও কলমসহ ফাইল
প্রতীকী ছবি

গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের হাতে থাকা মোট ৭৯.২ মেগাহার্টজ তরঙ্গের (স্পেকট্রাম) মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১০ নভেম্বর। এর আগে নবায়নের শর্ত আরও শিথিল করার দাবি জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব)। সংগঠনটি চায়, ১৫ বছরের জন্য নির্ধারিত দামেই ২০ বছরের লাইসেন্স দেওয়া হোক, ২০ বছরে কিস্তিতে টাকা পরিশোধের সুযোগ থাকুক এবং তরঙ্গের বার্ষিক চার্জ তুলে নেওয়া হোক।

দৈনিক যুগান্তর গত ২৯ অক্টোবর বিকেল ৫টা ৫১ মিনিটে অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। অপারেটরদের এই দাবিকে প্রতিবেদনের শিরোনামে ‘মামাবাড়ির আবদার’ বলে উল্লেখ করেছে পত্রিকাটি। ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারও এমটবের চিঠির বিষয়বস্তু নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

দফায় দফায় প্রস্তাব

যুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবারই প্রথম গবেষণার ভিত্তিতে তরঙ্গের দাম নির্ধারণ করেছে। ১৫ অক্টোবর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠানো চিঠিতে কমিশন ১৫ বছরের জন্য প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের দাম ৯০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ২৩৭ কোটি, ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ১৯৮ কোটি এবং ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ১৭২ কোটি টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করে। পত্রিকাটি লিখেছে, এই দাম আগের তুলনায় গড়ে সর্বোচ্চ প্রায় ৩০ শতাংশ কম।

বিজ্ঞাপন

ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবরের প্রস্তাবে তিন ব্যান্ডে দাম ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমানোর কথা বলা হয়েছিল। এতে নবায়নে মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা, যা বিদ্যমান দামে হতো প্রায় ১৬ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। ওই প্রস্তাবের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০৩৯ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় ১২ বছর চার মাস।

যুগান্তর জানায়, প্রাথমিক প্রস্তাবে আটটি সমান কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের কথা ছিল। অপারেটরদের দাবির পর ২২ অক্টোবর বিটিআরসি সংশোধিত প্রস্তাব পাঠায়। তাতে লাইসেন্সের মেয়াদ ১৫ থেকে বাড়িয়ে ২০ বছর এবং কিস্তি আটটি থেকে বাড়িয়ে ১২টি করার সুপারিশ করা হয়।

বিষয় বিটিআরসির সংশোধিত প্রস্তাব (২২ অক্টোবর) এমটবের দাবি (২৫ অক্টোবরের চিঠি)
লাইসেন্সের মেয়াদ ২০ বছর ২০ বছর, তবে ১৫ বছরের জন্য নির্ধারিত দামে
কিস্তি ১২টি ২০ বছরে ২০টি সমান বার্ষিক কিস্তি
বার্ষিক তরঙ্গ চার্জ প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই প্রত্যাহার

তথ্য: যুগান্তর ও দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন।

এমটবের চিঠিতে যা আছে

২৫ অক্টোবর বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. এমদাদ উল বারীকে চিঠিটি দেন এমটবের মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিতে ২০ বছর মেয়াদের প্রস্তাবকে আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও প্রগতিশীল পদক্ষেপ বলে স্বাগত জানিয়েছে এমটব। তবে সংগঠনটির আপত্তি দাম নিয়ে। তাদের ভাষ্য, কম মেয়াদের জন্য প্রস্তাবিত দাম যান্ত্রিকভাবে বাড়িয়ে লম্বা মেয়াদের দাম ঠিক করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। অথচ তরঙ্গের মূল্যায়নে মূল্যস্ফীতি, প্রযুক্তির পরিবর্তন ও বিনিয়োগঝুঁকির মতো বিষয় বিবেচনা করতে হয়।

মূল্যায়নের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এমটব। চিঠিতে বলা হয়েছে, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের যে গবেষণার ভিত্তিতে দাম ঠিক হয়েছে, তার অনুমান ও ফলাফল খাতসংশ্লিষ্টদের জানানো হয়নি। সংগঠনটির মতে, তরঙ্গের দামকে শুধু রাজস্বের বিষয় হিসেবে না দেখে খাতের অগ্রগতির সহায়ক হিসেবে দেখা উচিত। অতিরিক্ত খরচ বিনিয়োগ ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বাধা হয়ে সেবার মান ও সাশ্রয়ী দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিষয়গুলো দ্রুত মীমাংসায় বিটিআরসির শীর্ষ নেতৃত্ব ও অপারেটরদের প্রধান নির্বাহীদের জরুরি বৈঠকের অনুরোধও জানিয়েছে তারা।

রাজস্ব নিয়ে প্রশ্ন

যুগান্তরের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্টদের বরাতে বলা হয়েছে, বিটিআরসির প্রস্তাবিত ২০ বছরের মূল্যকাঠামোর বদলে ১৫ বছরের দামেই ২০ বছরের মেয়াদ দেওয়া হলে স্পেকট্রাম ফি বাবদ সরকারের সম্ভাব্য আয় ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি কমতে পারে। এই হিসাবের বিস্তারিত ভিত্তি প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। আইটি বাংলা হিসাবটি আলাদাভাবে যাচাই করতে পারেনি।

পত্রিকাটি আরও জানায়, বিটিআরসির ৩১২তম কমিশন সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তরঙ্গ বরাদ্দে সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে সর্বোচ্চ ১০টি কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

গ্রাহকস্বার্থের প্রশ্ন

মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, তরঙ্গ নবায়নে ছাড় দেওয়ার আগে গ্রাহকস্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর মতে, দাম কমানো ও কিস্তির সুবিধা দিলে তার সুফল গ্রাহকদেরও পাওয়া উচিত। নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, কলড্রপ কমানো এবং সাশ্রয়ী দামে মানসম্মত ইন্টারনেট নিশ্চিত করার শর্ত দেওয়ার পক্ষে তিনি। শর্ত পূরণ না হলে ছাড় প্রত্যাহারসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

বিটিআরসি যা বলছে

বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জুয়েল যুগান্তরকে বলেন, দাম নির্ধারণ ও লাইসেন্সের মেয়াদসংক্রান্ত প্রস্তাব ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এমটব চিঠি দিয়ে তাদের দাবি জানাচ্ছে, যা তারা জানাতেই পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। ডেইলি স্টার জানিয়েছে, বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী গবেষণার ভিত্তিতে নির্ধারিত দামের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। নবায়নের জন্য থাকা তরঙ্গের অন্তত ৮০ শতাংশ বিক্রি করাই কমিশনের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বিদ্যমান লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হতে বাকি আর ১১ দিন।

তথ্যসূত্র

  • দৈনিক যুগান্তর, “সরকারের কাছে ‘মামাবাড়ির আবদার’ জানিয়েছে মোবাইল অপারেটররা”, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫টা ৫১ মিনিট (বাংলাদেশ সময়): jugantor.com/national/1176284
  • দ্য ডেইলি স্টার, “Telcos seek deeper cuts in spectrum renewal prices”: thedailystar.net
বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

আরও পড়ুন