মূল বিষয়বস্তুতে যান
বিজ্ঞাপন

তাহসিফ সৌরির মৃত্যু: আইফোনের ফরেনসিক পরীক্ষায় যে ধাপগুলোর তাগিদ বিশেষজ্ঞের

ফোন চালু করে পরিচয় শনাক্ত আর পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা এক নয়, বলছেন সাইবার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা।

Faraday bag-এ রাখা স্মার্টফোন, আইফোনের আলামত সংরক্ষণ
ছবি: উইকিমিডিয়া কমনস / আইটিবাংলা গ্রাফিক্স

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর তদন্তে তাঁর সঙ্গে পাওয়া আইফোনটির পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার তাগিদ দিয়েছেন সাইবার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা। ২৯ অক্টোবর ডিজিবাংলায় প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে তিনি ফোনটি থেকে আলামত সংগ্রহ ও যাচাইয়ের ধাপগুলো তুলে ধরেছেন।

আইফোন ও অনলাইন অ্যাকাউন্ট ফরেনসিক পরীক্ষার ধাপের চার্ট
আইফোন ও অনলাইন অ্যাকাউন্ট ফরেনসিক পরীক্ষার ধাপ নিয়ে মূল নিবন্ধের চার্টের অংশ। ছবি: ডিজিবাংলা (সংগৃহীত)

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২৮ অক্টোবর) তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি মরদেহটি উদ্ধার করে। মরদেহের সঙ্গে একটি মানিব্যাগ, হাতঘড়ি ও বন্ধ অবস্থায় একটি আইফোন পাওয়া যায়। ফাঁড়ির ইনচার্জ ফিরোজ উদ্দিন সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, ফোনটি চার্জে দেওয়ার পর চালু হলে এক স্বজনের কল আসে, তাঁর সঙ্গে কথা বলেই পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ।

বিবিসি বাংলার খবর অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং কল রেকর্ড, লোকেশন ডেটা ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কথা জানিয়েছে। মৃত্যুর কারণ নিয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

বিজ্ঞাপন

ফোন চালু করা আর ফরেনসিক পরীক্ষা এক নয়

বিশেষজ্ঞ জোহার মতে, ফোন চালু করে পরিচয় শনাক্ত করা তদন্তের প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র। পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক পরীক্ষা আলাদা প্রক্রিয়া। তাঁর নিবন্ধে প্রস্তাবিত মূল ধাপগুলো এমন:

Faraday bag-এ রাখা স্মার্টফোন
তদন্তে জব্দ ফোন নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে ব্যবহৃত Faraday bag। ছবি: MIC85 / উইকিমিডিয়া কমনস (CC BY-SA 4.0)
  • ডিভাইস বিচ্ছিন্ন ও সংরক্ষণ: ফোনটিকে Faraday bag বা নেটওয়ার্ক-বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা, যাতে দূর থেকে remote wipe বা তথ্য পরিবর্তন করা না যায়। এরপর logical বা physical extraction করে ডেটার hash value সংরক্ষণ এবং পুরো chain of custody লিখিতভাবে নথিভুক্ত করা।
  • iCloud ও Apple অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণ: আইনি অনুমোদন নিয়ে ক্লাউড backup, Find My-এর তথ্য এবং অ্যাকাউন্টে যুক্ত অন্য ডিভাইসের তালিকা পরীক্ষা করা।
  • ইমেইল ও সামাজিক মাধ্যমের লগইন ইতিহাস: Gmail ও Facebook অ্যাকাউন্টের login ও session history, অস্বাভাবিক IP address বা অপরিচিত ডিভাইস থেকে প্রবেশের চিহ্ন খোঁজা।
  • আগে পাসওয়ার্ড রিসেট নয়: তাঁর সতর্কতা, তদন্তের শুরুতেই অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড রিসেট করলে সক্রিয় session ও গুরুত্বপূর্ণ লগ হারিয়ে যেতে পারে। তাই আগে প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে preservation request পাঠিয়ে পরে আইনি প্রক্রিয়ায় তথ্য সংগ্রহ করা উচিত।
  • ৭২ ঘণ্টার টাইমলাইন: কল, বার্তা, লোকেশন আর্টিফ্যাক্ট, অ্যাপ লগ ও ছবির মেটাডেটার টাইমস্ট্যাম্প মিলিয়ে মৃত্যুর আগের ৭২ ঘণ্টার ধারাবাহিক সময়রেখা তৈরি করা।
  • মুছে ফেলা তথ্য ও ক্রস-যাচাই: কোনো চ্যাট, ছবি বা তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে কি না দেখা এবং সম্ভব হলে তা উদ্ধার করা। পাশাপাশি টেলিকম অপারেটরের কল ডিটেইল রেকর্ড (CDR), সিসিটিভি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা।
  • ভৌত আলামতের সঙ্গে সমন্বয়: ডিজিটাল টাইমলাইনকে ময়নাতদন্ত, ভিসেরা ও সুরতহাল প্রতিবেদনের সঙ্গে তুলনা করা। তাঁর মতে, কোনো একক সূত্রের ওপর ভর করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

Apple-এর নিয়মে প্রিজারভেশন অনুরোধ

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য Apple-এর প্রকাশিত Legal Process Guidelines অনুযায়ী, সরকারি বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাপ্তরিক ইমেইল থেকে প্রিজারভেশন অনুরোধ পাঠানো যায়। অনুরোধে সংশ্লিষ্ট Apple ID বা অ্যাকাউন্টের ইমেইল, অথবা পুরো নামের সঙ্গে ফোন নম্বর বা ঠিকানা উল্লেখ করতে হয়। অনুরোধ পেলে অনুরোধের সময় বিদ্যমান তথ্যের একটি কপি Apple ৯০ দিন সংরক্ষণ করে, নতুন অনুরোধে তা আরও একবার ৯০ দিন বাড়ানো যায়। তবে কনটেন্ট হাতে পেতে যুক্তরাষ্ট্রের আইন মেনে, যেমন পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তির (MLAT) মাধ্যমে, আলাদা আইনি অনুরোধ লাগে।

নিবন্ধের উপসংহারে জোহা লিখেছেন, মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে ডিজিটাল ও ভৌত ফরেনসিক প্রমাণের সমন্বিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন। আলামতের আইনি গ্রহণযোগ্যতা রক্ষায় পেশাদার যাচাই জরুরি বলেও মত দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

আরও পড়ুন