ব্রিটেনে অফকমের বিরুদ্ধে মামলায় হারল মেটা, টিকটক ও এক্স
অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের আওতায় কনটেন্ট মডারেশনের তথ্য চেয়ে অফকমের নোটিশ চ্যালেঞ্জ করেছিল তিন প্রতিষ্ঠান। লন্ডনের হাইকোর্ট তাদের আবেদন খারিজ করেছেন।
আমাদের প্রতিবেদক
যুক্তরাজ্যের অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের আওতায় দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমের তথ্য চাওয়ার নোটিশের বিরুদ্ধে করা আইনি চ্যালেঞ্জে হেরে গেছে মেটা, টিকটক ও এক্স। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) লন্ডনের হাইকোর্ট তিন প্রতিষ্ঠানের আবেদন খারিজ করে দেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ব্রিটেনের নতুন অনলাইন নিরাপত্তা কাঠামোর এটি প্রথম দিককার বড় আইনি পরীক্ষাগুলোর একটি।
আদালতের রায় ও মামলার আইনজীবীদের চেম্বার ব্ল্যাকস্টোন চেম্বার্সের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, হাইকোর্টের কিংস বেঞ্চ বিভাগের ডিভিশনাল কোর্টে লর্ড জাস্টিস সিং ও বিচারপতি কলিন্স রাইস মামলাটি শোনেন। অনলাইন সেফটি অ্যাক্টে অফকমের তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা নিয়ে এটিই প্রথম জুডিশিয়াল রিভিউ মামলা।

কী চেয়েছিল অফকম
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আইনের ১০০ ধারার আওতায় মেটা, হোয়াটসঅ্যাপ, এক্স ও টিকটককে তথ্য চেয়ে নোটিশ পাঠায় অফকম। এতে কনটেন্ট মডারেশনের বিস্তারিত পরিসংখ্যান চাওয়া হয়, যেমন কতগুলো পোস্ট সরানো হয়েছে বা কতগুলোর দৃশ্যমানতা সীমিত করা হয়েছে এবং কত ব্যবহারকারী ক্ষতিকর কনটেন্টের মুখোমুখি হয়েছেন। অফকমের ভাষ্য, অনলাইন নিরাপত্তা সমস্যার ধরন ও মাত্রা বুঝে কৌশল ঠিক করতে এসব তথ্য দরকার।
প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি ছিল, এসব নোটিশ নজিরবিহীন নিয়ন্ত্রক বোঝা তৈরি করছে। এক্স বলেছে, কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া সবচেয়ে ভারী এই তথ্য-অনুরোধ মানতে তাদের কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড খরচ হবে।
পাঁচ যুক্তির কোনোটিই টেকেনি
প্রতিষ্ঠানগুলো পাঁচটি যুক্তিতে নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে। এর মধ্যে ছিল, নোটিশগুলো আইনের আলাদা ‘ট্রান্সপারেন্সি রেজিম’ পাশ কাটিয়ে গেছে, চাওয়া তথ্য অফকমের কাজের জন্য ‘প্রয়োজনীয়’ নয়, অফকম প্রভাব মূল্যায়ন করেনি এবং অনুরোধগুলো অসামঞ্জস্যপূর্ণ। টিকটক আলাদাভাবে অভিযোগ করে, সিদ্ধান্তটি আগে থেকেই ঠিক করা ছিল।
আদালত প্রথম চারটি যুক্তিকে শুনানিযোগ্য নয় বলে বাতিল করেন। পঞ্চম যুক্তি, অর্থাৎ অনুরোধগুলো অসামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা শুনানির অনুমতি পেলেও শেষ পর্যন্ত খারিজ হয়। আদালত বলেন, ট্রান্সপারেন্সি রেজিমের উদ্দেশ্য তথ্য প্রকাশ, আর অফকমের নোটিশ তার নিজের কাজের জন্য তথ্য সংগ্রহ, তাই দুটি আলাদা বিষয়।
কে কী বলছে
রায়কে স্বাগত জানিয়ে অফকমের একজন মুখপাত্র বলেছেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ তাদের কাজের মূল ভিত্তি। অন্যদিকে মেটার এক মুখপাত্র বলেছেন, তাঁরা রায়ে হতাশ; এই মাত্রায় তথ্য সংগ্রহ প্রয়োজন ও সামঞ্জস্যের সীমা ছাড়িয়ে যায় বলেই তাঁরা ও খাতের অন্যরা চ্যালেঞ্জটি করেছিলেন। টিকটক জানিয়েছে, তারা রায়টি পর্যালোচনা করছে। এক্স তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
সামনে আরও মামলা
২০২৩ সালের অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও এক্সের মতো প্ল্যাটফর্মের জন্য কঠোর মানদণ্ড ঠিক করেছে, যার মূল লক্ষ্য বিশেষ করে শিশুদের ক্ষতিকর ও অবৈধ কনটেন্ট থেকে রক্ষা করা। গুরুতর লঙ্ঘনে প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, এই আইনের বিভিন্ন অংশ নিয়ে আরও কয়েকটি মামলা চলছে। এর মধ্যে অফকম কীভাবে ফি ও সম্ভাব্য জরিমানা হিসাব করে, তা নিয়ে মেটার আলাদা মামলার রায় এখনো বাকি, যেটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।











মন্তব্য