মূল বিষয়বস্তুতে যান
বিজ্ঞাপন

এআর, ভিআর, এমআর ও এক্সআর: চার প্রযুক্তির পার্থক্য সহজ ভাষায়

এআরে বাস্তব জগৎই মুখ্য, ভিআরে পুরোটাই ডিজিটাল, এমআরে দুটি মিলেমিশে কাজ করে, আর এক্সআর হলো সবগুলোর সম্মিলিত নাম। উদাহরণসহ চার প্রযুক্তির পার্থক্য।

বসার ঘরের এআর দৃশ্য থেকে হলোগ্রাম, কাল্পনিক ভার্চ্যুয়াল জগৎ ও টেবিলে রাখা হেডসেট পর্যন্ত চার ভাগের দৃশ্য
ছবি: আইটিবাংলা গ্রাফিক্স (মূল ছবি: প্রথম আলো)

আমাদের প্রতিবেদক

নতুন কোনো হেডসেট বা স্মার্ট চশমা বাজারে এলেই ঘুরেফিরে আসে চারটি শব্দ: এআর, ভিআর, এমআর ও এক্সআর। শুনতে কাছাকাছি হলেও প্রতিটির অর্থ আলাদা। পার্থক্যটা বোঝার সহজ উপায় হলো একটি প্রশ্ন করা: আপনি চারপাশের বাস্তব জগৎ কতটা দেখতে পাচ্ছেন, আর ডিজিটাল জিনিসের সঙ্গে কতটা কাজ করতে পারছেন।

এআর: বাস্তবের ওপর ডিজিটাল স্তর

অগমেন্টেড রিয়েলিটি বা এআরে আপনি চারপাশের বাস্তব পরিবেশ দেখতেই থাকেন, তার ওপর যুক্ত হয় ছবি, লেখা বা গ্রাফিকস। এর জন্য বিশেষ যন্ত্র লাগে না, স্মার্টফোনের ক্যামেরাই যথেষ্ট। ফোন দিয়ে ঘরের মেঝেতে ভার্চ্যুয়াল সোফা বসিয়ে দেখা, খেলার চরিত্র রাস্তায় খুঁজে বেড়ানো কিংবা ক্যামেরা ধরে অন্য ভাষার সাইনবোর্ড অনুবাদ করা, সবই এআরের উদাহরণ। ডিজিটাল উপাদান এখানে মূলত বাস্তবের ওপর ভেসে থাকে।

বিজ্ঞাপন

ভিআর: পুরোপুরি ডিজিটাল জগৎ

ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি বা ভিআর ঠিক উল্টো। মাথায় হেডসেট পরলে চোখের সামনে থেকে বাস্তব জগৎ সরে যায়, তার জায়গা নেয় কম্পিউটারে তৈরি ত্রিমাত্রিক পরিবেশ। মাথা ঘোরালে দৃশ্যও ঘোরে, ফলে মনে হয় যেন সত্যিই সেখানে আছেন। গেম খেলা, প্রশিক্ষণ বা ভার্চ্যুয়াল ভ্রমণে ভিআর বেশি ব্যবহৃত হয়। মেটার কোয়েস্ট সিরিজ, এইচটিসি ভাইভ ও সনির প্লেস্টেশন ভিআর এ ধরনের পরিচিত যন্ত্র।

সুপারশপে স্মার্টফোনের পর্দায় এআর গেমের ভার্চ্যুয়াল চরিত্র
স্মার্টফোনের ক্যামেরায় বাস্তব দৃশ্যের ওপর ভার্চ্যুয়াল চরিত্র, এআরের একটি উদাহরণ। ছবি: প্রথম আলো

এমআর: বাস্তব ও ডিজিটালের মেলবন্ধন

মিক্সড রিয়েলিটি বা এমআর এআরের চেয়ে এক ধাপ এগোনো। এখানে ডিজিটাল বস্তু শুধু বাস্তবের ওপর ভেসে থাকে না, বরং ঘরের টেবিল, দেয়াল বা মেঝের অবস্থান বুঝে সেখানে স্থির হয়ে বসে। ব্যবহারকারী হাত দিয়ে সেগুলো সরাতে, ঘোরাতে বা বড়-ছোট করতে পারেন। মাইক্রোসফটের হলোলেন্স এ ধারণাকে পরিচিত করে তোলে। এখনকার অনেক হেডসেট সামনের ক্যামেরা দিয়ে বাস্তব দৃশ্য দেখিয়ে তার ওপর ডিজিটাল জিনিস বসায়, যাকে বলা হয় পাসথ্রু। অ্যাপলের ভিশন প্রো ও মেটার কোয়েস্ট ৩ এভাবেই একই যন্ত্রে ভিআর ও এমআর দুই অভিজ্ঞতা দেয়।

এক্সআর: সবগুলোর ছাতা

এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি বা এক্সআর আলাদা কোনো প্রযুক্তি নয়। এআর, ভিআর ও এমআরসহ বাস্তব আর ভার্চ্যুয়াল জগৎ মেলানোর সব প্রযুক্তিকে একসঙ্গে বোঝাতে শব্দটি ব্যবহার করা হয়। যেমন গুগল হেডসেট ও স্মার্ট চশমার জন্য যে অপারেটিং সিস্টেম এনেছে, তার নাম রাখা হয়েছে অ্যান্ড্রয়েড এক্সআর, কারণ এটি দুই ধরনের যন্ত্রেই চলবে।

সংক্ষেপে, এআরে বাস্তব জগৎই মুখ্য, ভিআরে পুরোটাই ডিজিটাল, এমআরে দুটি মিলেমিশে কাজ করে, আর এক্সআর হলো এই তিনটির সম্মিলিত নাম।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

আরও পড়ুন