সাইবার নিরাপত্তা ও এআই নিয়ে টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের আলোচনা
ডিজিটাল রূপান্তর, সাইবার নিরাপত্তা, এআই, নিরাপদ ডিজিটাল পরিচয় ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন সুইডেনের রাষ্ট্রদূত।
আমাদের প্রতিবেদক
ডিজিটাল রূপান্তর, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস (Nicolas Weeks)।
রোববার (১ নভেম্বর) ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় বলে মন্ত্রীর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে জানানো হয়েছে।

ডিজিটাল পরিচয় ও লেনদেনের নিরাপত্তা
পোস্ট অনুযায়ী, আলোচনায় ‘ওয়ান আইডি–ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগ, নিরাপদ ডিজিটাল পরিচয়ব্যবস্থা, অনলাইন আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা এবং নাগরিকবান্ধব ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। নিরাপদ ব্যাংকিং ও পরিচয়প্রযুক্তি, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও আলোচনায় আসে।
মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল সেবা ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর উদ্দেশ্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ নয়; বরং অনলাইন হয়রানি, অপপ্রচার, ক্ষতিকর কনটেন্ট ও প্রযুক্তির অপব্যবহার মোকাবিলা করা।
এআই ও তরুণদের কর্মসংস্থান
এআই প্রসঙ্গে দুই পক্ষ এর সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিয়ে মতবিনিময় করে। মন্ত্রী বলেন, এআইয়ের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান, মানবসম্পদ উন্নয়ন, তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহারের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। তরুণ ও নতুন স্নাতকদের জন্য ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
সুইডেনের রাষ্ট্রদূত এ ক্ষেত্রে সরকার, বেসরকারি খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন। পোস্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের ডিজিটাল জনপরিকাঠামো উন্নয়ন ও সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে সুইডেনের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতার আগ্রহের কথা জানান তিনি। তাঁর মতে, ডিজিটাল অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ, সাইবার নিরাপত্তা ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে পূর্বানুমেয় নিয়ন্ত্রক পরিবেশ, সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ ও বহুমুখী প্রযুক্তি অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট
সাক্ষাতে শিশু-কিশোরদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অভিভাবকের ভূমিকা এবং ডিজিটাল শিক্ষার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়। সাক্ষাতে সুইডেন দূতাবাসের প্রথম সচিব উপস্থিত ছিলেন। ডিজিটাল প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, এআই ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ প্রকাশ করে।
তথ্যসূত্র











মন্তব্য