মূল বিষয়বস্তুতে যান
বিজ্ঞাপন

ইনসার্টকিট: ভয়েস টাইপিং, টেক্সট এক্সপ্যানশন ও ক্লিপবোর্ড এক অ্যাপে

শর্টকাট লিখে পুরো লেখা বসানো, মুখে বলে টাইপ আর ক্লিপবোর্ড হিস্ট্রি—এক অ্যাপে এই তিন সুবিধা দেওয়ার কথা বলছে ঢাকাভিত্তিক প্রোডাক্টিভিটি টুল ইনসার্টকিট। অক্টোবরের হালনাগাদে এসেছে এআই সহকারী ও অটো ট্রান্সলেশন।

ইনসার্টকিটের ওয়েবসাইটের ল্যাপটপ মকআপ, পাশে লেখা ইনসার্টকিট: কম টাইপ, বেশি কাজ
ছবি: ইনসার্টকিট ওয়েবসাইট / আইটিবাংলা গ্রাফিক্স

আমাদের প্রতিবেদক

একই উত্তর, একই ই-মেইল কিংবা একই শুভেচ্ছাবার্তা দিনে বহুবার লিখতে হয় যাঁদের, তাঁদের জন্য এক অ্যাপে কয়েকটি সুবিধা নিয়ে এসেছে ইনসার্টকিট (InsertKit)। ছোট একটি শর্টকাট লিখলে পুরো লেখা বসে যাওয়া, মুখে বলে টাইপ করা আর কপি করা লেখার হিস্ট্রি রাখা—এই তিন কাজ একসঙ্গে করার কথা বলছে প্রোডাক্টিভিটি টুলটি। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে এর স্লোগান দেওয়া হয়েছে ‘Type Less, Insert More’।

প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটের ‘অ্যাবাউট’ পাতায় প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আল আমিনের নাম দেওয়া আছে। পেশাভিত্তিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে ইনসার্টকিটের পাতায় বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালে যাত্রা শুরু করেছে এবং এর প্রধান কার্যালয় ঢাকায়।

বিজ্ঞাপন
ইনসার্টকিটের ওয়েবসাইটের বাংলা হোমপেজ
ইনসার্টকিটের ওয়েবসাইটের বাংলা হোমপেজ। ছবি: ইনসার্টকিট ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট

ইনসার্টকিট কী করে

ওয়েবসাইটের বর্ণনা অনুযায়ী, ইনসার্টকিট মূলত একটি টেক্সট এক্সপ্যানশন টুল। ব্যবহারকারী আগে থেকে নিজের দরকারি লেখা ‘স্নিপেট’ হিসেবে সেভ করে রাখেন, প্রতিটির জন্য থাকে ছোট একটি ট্রিগার, যেমন /thanks। পরে যেকোনো অ্যাপে সেই ট্রিগার লিখলেই পুরো লেখা বসে যায়। স্নিপেটে {{name}} বা {{date}}-এর মতো ডায়নামিক প্লেসহোল্ডার ব্যবহার করা যায়, একই স্নিপেটের একাধিক সংস্করণ রাখা যায় এবং ফোল্ডার ও ক্যাটাগরি দিয়ে সাজিয়ে রাখা যায়।

এর সঙ্গে আছে ভয়েস টাইপিং। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, একটি কী চেপে ধরে কথা বললে অ্যাপটি সেই কথা লেখায় রূপান্তর করে, যে অ্যাপে কাজ চলছে তার উপযোগী করে এআই দিয়ে গুছিয়ে দেয় এবং সরাসরি বসিয়ে দেয়। ‘insert’ বলে স্নিপেটের ট্রিগার বললেও সেভ করা লেখা চলে আসে। ‘Hey IK’ নামে একটি এআই ভয়েস সহকারীর কথাও ওয়েবসাইটে উল্লেখ আছে।

এ ছাড়া Ctrl + Shift + Z চাপলে আগে কপি করা লেখার তালিকা দেখা যায়, অর্থাৎ ক্লিপবোর্ড হিস্ট্রি। টিমের সদস্যদের সঙ্গে স্নিপেট শেয়ার করার ব্যবস্থাও রয়েছে।

কোন কোন প্ল্যাটফর্মে

ডাউনলোড পাতার তথ্য অনুযায়ী, ইনসার্টকিট চলে Windows 10 বা পরের সংস্করণ, macOS 11.0 বা পরের সংস্করণ, Linux (AppImage, .deb ও .rpm), Chrome 88 বা পরের সংস্করণ (এক্সটেনশন হিসেবে) এবং Android 7.0 বা পরের সংস্করণে। এক অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করলে সব ডিভাইসে স্নিপেট সিংক হয় বলে জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হেল্প গাইডে আইফোন অ্যাপকে ‘শিগগিরই আসছে’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

একই গাইডে বলা হয়েছে, ডেস্কটপ অ্যাপটি Tauri ও Rust দিয়ে তৈরি, ইন্টারফেসে React; অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ Kotlin-এ এবং ওয়েবসাইট Next.js-এ বানানো।

কাদের জন্য

ওয়েবসাইটে ইনসার্টকিটের সম্ভাব্য ব্যবহারকারী হিসেবে কাস্টমার সাপোর্ট টিম, সেলস ও আউটরিচে কাজ করা কর্মী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তাদের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ যাঁদের নিয়মিত একই ধরনের বার্তা, ই-মেইল বা উত্তর লিখতে হয়, তাঁদের লক্ষ্য করেই টুলটি সাজানো।

প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের তুলনা করেছে TextExpander, TypeDesk ও Wispr Flow-এর মতো পরিচিত টুলের সঙ্গে। ওয়েবসাইটের দাবি, ক্লিপবোর্ড হিস্ট্রি, স্নিপেটের একাধিক সংস্করণ, এআই ভয়েস সহকারী ও অফলাইন ভয়েস টাইপিং—সবকিছু একসঙ্গে, সঙ্গে ফ্রি প্ল্যানও দেয় একমাত্র ইনসার্টকিট। এই দাবি আইটিবাংলা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি।

দাম কত

৩০ অক্টোবর ২০২৬ আইটিবাংলা যখন প্রাইসিং পাতাটি দেখেছে, তখন সেখানে চারটি মাসিক প্ল্যান টাকায় দেখানো ছিল। ফ্রি প্ল্যানে ১০টি স্নিপেট ও ৩০টি ক্লিপবোর্ড হিস্ট্রি রাখা যায়। ‘ইন্ডিভিজুয়াল’ প্ল্যানের দাম মাসে ৫৯৯ টাকা, এতে ১০০টি স্নিপেট ও মাসে ১ লাখ এআই ক্রেডিট দেওয়া হয়। পাঁচজন সদস্যের ‘টিম’ প্ল্যান মাসে ১ হাজার ৯৯ টাকা এবং ২০ জন সদস্যের ‘এন্টারপ্রাইজ’ প্ল্যান মাসে ১ হাজার ৪৯৯ টাকা। বার্ষিক প্ল্যানে ২০ শতাংশ সাশ্রয়ের কথা বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিবর্তন তালিকা (চেঞ্জলগ) অনুযায়ী, ব্যবহারকারীর দেশ শনাক্ত করে সেই অনুযায়ী মুদ্রা দেখানো হয়, তাই অন্য দেশ থেকে দাম ভিন্নভাবে দেখা যেতে পারে।

প্রাইসিং পাতায় আরও বলা হয়েছে, ফ্রি সংস্করণে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ ভয়েস টাইপিং করা যায়। কেউ চাইলে ডেস্কটপ বা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপে নিজের এপিআই কী ব্যবহার করতে পারেন; সে ক্ষেত্রে ‘আমি নিজের API ব্যবহার করব’ অপশন চালু করলে কম দাম দেখায়। ৩০ দিনের মধ্যে টাকা ফেরতের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, আর পেমেন্ট নেওয়া হয় স্ট্রাইপের মাধ্যমে। এককালীন অর্থ পরিশোধে আজীবন ব্যবহারের একটি ‘লাইফটাইম ডিল’-এর ব্যানারও ওয়েবসাইটে দেখা গেছে।

ইনসার্টকিটের প্রাইসিং পাতা, টাকায় মাসিক প্ল্যানের দাম
৩০ অক্টোবর ২০২৬ প্রাইসিং পাতায় দেখানো মাসিক প্ল্যান। ছবি: ইনসার্টকিট ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট

এক বছরে যেভাবে এগিয়েছে

ওয়েবসাইটের চেঞ্জলগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর উইন্ডোজের জন্য ইনসার্টকিটের প্রথম সংস্করণ (১.০.০) প্রকাশ করা হয়। ১৫ অক্টোবর ২০২৫ ডেস্কটপ অ্যাপ, ক্রোম এক্সটেনশন, টিম ফিচার ও বাংলাদেশি পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত হয়। ১৫ নভেম্বর ২০২৫ সংস্করণ ২.০.০-তে আসে ক্লাউড সিংক, ক্লিপবোর্ড হিস্ট্রি ও লাইফটাইম ডিল। এরপর ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ অ্যান্ড্রয়েড ও ম্যাক অ্যাপ চালু হয়।

সর্বশেষ বড় হালনাগাদটি এসেছে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। চেঞ্জলগে বলা হয়েছে, এ দফায় ডেস্কটপ ও মোবাইলে একটি এআই সহকারী যুক্ত হয়েছে, যাকে বলে দিলেই সেটিংস বদলানো, স্নিপেট তৈরি বা ব্যবহারের হিসাব দেখার মতো কাজ করা যায়। এক ভাষায় কথা বললে অন্য ভাষায় লিখে দেওয়ার ‘অটো ট্রান্সলেশন’ সুবিধাও এসেছে, বসানোর আগে লেখাটি দেখে নেওয়ার অপশনসহ। ক্রোম এক্সটেনশনে লেখা সিলেক্ট করে নতুন করে লেখানোর পপআপ, কত শব্দ মুখে বলা হলো বা কতটা সময় বাঁচল তা দেখানোর অ্যাক্টিভিটি ড্যাশবোর্ড এবং মাসিক ও বার্ষিক প্ল্যানে ডিফল্টভাবে এআই ক্রেডিট যুক্ত করার কথাও জানানো হয়েছে।

একই হালনাগাদে উইন্ডোজ অ্যাপটি মাইক্রোসফট স্টোরে তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। মাইক্রোসফট স্টোরে অ্যাপটি পাওয়া যাচ্ছে এবং সেখানে প্রকাশক হিসেবে বিজনিফট (Biznift) নামটি দেখা যায়।

গোপনীয়তা নিয়ে ‘অ্যাবাউট’ পাতায় প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তথ্য আদান-প্রদানের সময় টিএলএস দিয়ে এনক্রিপ্ট করা হয় এবং সংবেদনশীল তথ্য সংরক্ষণের সময়ও এনক্রিপ্ট থাকে। বিজ্ঞাপন বা বিক্রির উদ্দেশ্যে ব্যবহারকারীর স্নিপেটের লেখা পড়া হয় না বলেও দাবি করা হয়েছে। ওয়েবসাইটটি ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাতেও দেখা যায়।

তথ্যসূত্র

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

আরও পড়ুন