‘বিল্ডিং ফাস্টার মানেই সেলিং ফাস্টার না’: এআইয়ে সফটওয়্যার বানানো দ্রুত, তবু ক্লায়েন্ট কমছে এজেন্সির
এআইয়ে কয়েক মাসের কাজ দিনে নামলেও বিক্রি সেই গতিতে বাড়ছে না; দেশের এজেন্সিগুলো ক্লায়েন্ট কম পাচ্ছে, লিখেছেন বশিরুল এইচ ফয়সাল।
আমাদের প্রতিবেদক
এআইয়ের কারণে সফটওয়্যার বানানো দ্রুত হলেও সেই গতিতে বিক্রি বাড়ছে না। ফলে দেশের সফটওয়্যার এজেন্সিগুলো ক্লায়েন্ট কম পাচ্ছে, বাড়ছে নগদ অর্থপ্রবাহ (ক্যাশ ফ্লো) আর খরচ কমানোর চাপ। ফেসবুকে এক পোস্টে এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন বশিরুল এইচ ফয়সাল।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দেওয়া পোস্টের শেষ লাইনেই তিনি মূল কথাটি লেখেন: “বিল্ডিং ফাস্টার মানেই সেলিং ফাস্টার না।”
সাপ্লাই বেশি, ডিমান্ড কম
ফয়সাল লিখেছেন, আগে যে কাজে কয়েক মাস লাগত, এআইয়ের কারণে তা এখন সপ্তাহ বা দিনের মধ্যে শেষ হচ্ছে। একজন মানুষ এআই ব্যবহার করে দশজনের কাজ করতে পারছেন। কিন্তু প্রোডাক্ট বানানোর গতি যত বাড়ছে, মানুষ সেটা কেনা বা ব্যবহার শুরুর গতি সেই অনুপাতে বাড়ছে না। অনেক প্রোডাক্টের আসলে বাজারে চাহিদা আছে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।
তাঁর পর্যবেক্ষণ, “অনেক ক্লায়েন্ট এখন নিজেদের ছোটখাটো জিনিসগুলো AI দিয়ে নিজেরাই করে ফেলছে। ফলে সাপ্লাই অনেক বেড়ে গেছে, আর ডিমান্ড কমে গেছে। এই কারণে এখন ক্লায়েন্ট কম পাচ্ছি — অন্তত বাংলাদেশের এজেন্সিগুলোও কম পাচ্ছে।”
উদাহরণ দিয়ে তিনি লেখেন, পাঁচ-ছয় মাসের কাজ এক মাসে শেষ হয়ে প্রোডাক্ট তৈরি হলেও কাস্টমার আসা, তাদের ব্যবহার শুরু করা এবং টাকা আসতে এখনো সময় লাগে। এতে কোম্পানিগুলোর ওপর ক্যাশ ফ্লো ও খরচ কমানোর চাপ বাড়তেই থাকে।
শ্রীধর ভেম্বুর ‘রিব্যালান্সিং’
পোস্টে জোহোর সহপ্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বুর একটি এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টের স্ক্রিনশট জুড়ে দিয়েছেন ফয়সাল। সেখানে ভেম্বু লিখেছেন, কম্পিউটারে করা যায় এমন যেকোনো কাজেই ঝুঁকি আছে, কারণ এআই ব্যবহার করে একজন দক্ষ মানুষ দশজনের কাজ করতে পারেন। তবে এর মানে এই নয় যে কম্পিউটারে কাজ করা ৯০ শতাংশ মানুষ বেকার হয়ে যাবেন। যেসব শিল্প আগে সফটওয়্যার প্রকৌশলী বা ডিজিটাল মার্কেটার রাখতে পারত না, তারা এখন পারছে। ভেম্বুর মতে, পুরো অর্থনীতিতে একটা ‘রিব্যালান্সিং’ হচ্ছে, আর সেটা পার হওয়ার সময়টা কষ্টের।
ফয়সালের পরামর্শ, পরিবর্তনটা আসছে, তা মেনে নিয়ে নিজেদের প্রস্তুত রাখতে হবে। তাঁর ভাষায়, “We have to skill up more and more.”
মন্তব্যে ভিন্নমতও
পোস্টের মন্তব্যে একজন লিখেছেন, কর্মী রাখা গেলেও আয় কমে যাবে। আরেকজন মনে করিয়ে দেন, উৎপাদনশিল্পে রোবট আসার সময়ও ‘সব গেল’ ধরনের আতঙ্ক ছিল, এই হিড়িকও একসময় থিতিয়ে আসবে। জবাবে ফয়সাল লেখেন, এবারের ধাক্কাটা একটু জোরে লেগেছে, রাজস্বে বেশ ভালোভাবেই প্রভাব পড়েছে।
সূত্র: বশিরুল এইচ ফয়সাল-এর ফেসবুক পোস্ট — https://www.facebook.com/share/p/1GqfP8Fzg6/











মন্তব্য