কারাগার থেকেই আদালতে ডিজিটাল হাজিরা দেবেন আসামিরা, পরিকল্পনা করছে সরকার
আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে না এনে ডিজিটাল হাজিরা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনে তিনি এ কথা বলেন।
কারাগারে থাকা আসামিদের প্রতিটি ধার্য তারিখে আদালতে না এনে ডিজিটাল মাধ্যমে হাজিরা নেওয়ার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
সেদিন দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে দ্য ডেইলি স্টার বাংলার অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্য তুলে ধরা হয়। একই অনুষ্ঠানের খবর দিয়েছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও ঢাকা পোস্টও।
কেন ডিজিটাল হাজিরা
ডেইলি স্টার বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনমন্ত্রী বলেন, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে আনতে গাড়ি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হয়। এতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটি পুরো খাতকে এ কাজেই ব্যস্ত থাকতে হয়। ডিজিটাল হাজিরা চালু করা গেলে তা ‘যুগান্তকারী পরিবর্তন’ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড লিখেছে, এতে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে এবং যানবাহন, নিরাপত্তাকর্মী ও জনবলের প্রয়োজন কমবে বলে মনে করেন মন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের উদাহরণ দিয়ে আইনমন্ত্রী জানান, কিছু আসামির ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) এ ব্যবস্থা এরই মধ্যে চালু হয়েছে। এ ব্যবস্থায় আসামি কারাগারেই থাকেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সেখান থেকে তাঁর উপস্থিতি নিশ্চিত করেন, আর আদালত ডিজিটাল হাজিরা গ্রহণ করেন।
ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রী আরও জানান, ই-বেইল বন্ড এরই মধ্যে চালু হয়েছে। ডিজিটাল মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ ও হাজিরার বিষয়ে আইনও রয়েছে। এসব কার্যক্রম কীভাবে আরও বড় পরিসরে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে।
দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত
ঢাকা পোস্ট জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে ‘ই-পারিবারিক আপিল আদালত ৩’ এবং নতুন ‘ই-পারিবারিক আদালত ১৪’ উদ্বোধন করা হয়। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগে কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এ ব্যবস্থায় বিচারপ্রার্থীরা অনলাইনে মামলার তথ্য জানতে এবং ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্যাফোডিলের তৈরি এই ব্যবস্থা গত বছরের নভেম্বর থেকে ঢাকার পারিবারিক আদালত ৫-এ এবং ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রামের পারিবারিক আদালত ১-এ চলছে। বিচার বিভাগের ডিজিটাল রূপান্তরে সহযোগিতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ধন্যবাদ জানান আইনমন্ত্রী।
মামলাজট ও এআই প্রসঙ্গ
আইনমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ৪৬ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন। এসব মামলা নিষ্পত্তির দায়িত্ব প্রায় দুই হাজার ৩০০ বিচারকের, যাঁদের ওপর বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ মহানগরগুলোতে চাপ অনেক বেশি। ডেইলি স্টার বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার চাপ বেশি এমন জেলাগুলোতে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে সক্ষম কর্মকর্তাদের বাছাই করে পদায়নের কথা ভাবছে সরকার। কোনো কোনো আদালতে দিনে দুই-তিন ঘণ্টা কাজ হওয়ার অভিযোগ পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। এমন বিচারিক কর্মকর্তাদের প্রতি সতর্কবার্তাও দেন তিনি।
বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারকাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়েও সতর্ক করেন আইনমন্ত্রী। বিশেষ করে রায় লেখা বা সাক্ষ্য গ্রহণে বিচারকেরা এআই-নির্ভর হয়ে পড়লে ন্যায়বিচার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে বিচারকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তরুণ বিচারকদের প্রযুক্তি-দক্ষতার প্রশংসাও করেন মন্ত্রী।
ডিজিটাল হাজিরা কবে থেকে, কোন আদালতে বা কোন প্রক্রিয়ায় চালু হবে, তা অনুষ্ঠানে জানানো হয়নি।
তথ্যসূত্র
- দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, “আদালতে আসামিদের ডিজিটাল হাজিরা চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার: আইনমন্ত্রী”, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট (বাংলাদেশ সময়): bangla.thedailystar.net
- দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ২৯ অক্টোবর ২০২৬: tbsnews.net
- ঢাকা পোস্ট, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯টা ২৪ মিনিট: dhakapost.com/law-courts/493974; দুপুর ১২টা ২৫ মিনিট: dhakapost.com/law-courts/493806











মন্তব্য